21 C
London
June 1, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাজ্যের প্রথমবার কমল বাড়ির দাম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আর্থিক বাজারে অস্থিরতা এবং ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি কেনার আগ্রহ কমে এসেছে। এর ফলে চলতি বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিতে বাড়ির দাম কমেছে।

আবাসন ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনওয়াইড’-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাজ্যের গড় বাড়ির দাম আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমেছে। বর্তমানে একটি সাধারণ বাড়ির গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই লাখ আটাত্তর হাজার চব্বিশ পাউন্ড।

যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়ির দাম এখনও এক দশমিক সাত শতাংশ বেশি, তবে এপ্রিল মাসে যেখানে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল তিন শতাংশ, সেখানে মে মাসে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি আবাসন বাজারে গতি কমে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

ন্যাশনওয়াইডের প্রধান অর্থনীতিবিদ রবার্ট গার্ডনার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি মূল্যের বৃদ্ধি এবং বাজারে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে আবাসন বাজারে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।

অর্থনৈতিক তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘মানিফ্যাক্টস’-এর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষে দুই বছরের নির্ধারিত সুদের আবাসন ঋণের গড় হার ছিল পাঁচ দশমিক ছয় আট শতাংশ এবং পাঁচ বছরের নির্ধারিত সুদের ঋণের গড় হার ছিল পাঁচ দশমিক ছয় তিন শতাংশ। গত কয়েক মাসে ঋণের খরচ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।

সম্পত্তি বাজার বিশ্লেষক টম বিল বলেন, বছরের এই সময়ে সাধারণত আবাসন বাজারে কেনাবেচার গতি বাড়ে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি উল্টো চিত্র তুলে ধরছে। তার মতে, ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং এর প্রভাব বছরের বাকি সময়েও বাড়ির দামের ওপর পড়বে।

এদিকে সম্পত্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘স্যাভিলস’ তাদের পূর্বাভাসে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করেছিল এ বছর বাড়ির দাম গড়ে দুই শতাংশ বাড়বে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা এখন বলছে, বছর শেষে বাড়ির দাম দুই শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

তবে রবার্ট গার্ডনার মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্থায়ী নাও হতে পারে। তার মতে, আবাসন ঋণের মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত আর্থিক সূচকগুলো এখনও দুই হাজার তেইশ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানের নিচে রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আপাতত কম।

তিনি বলেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত প্রশমিত হয় এবং জ্বালানি মূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তাহলে আবাসন বাজারের বর্তমান দুর্বলতাও সাময়িক হতে পারে।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ডব্লিউপিআই স্ট্র্যাটেজি’র প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন বেক সতর্ক করে বলেছেন, শুধু সুদের হার কমলেই বাজারের সমস্যা দূর হবে না। বর্তমানে আবাসন ঋণের কিস্তি পরিশোধে পরিবারগুলোর আয়ের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে। এর সঙ্গে কর্মসংস্থানের বাজার দুর্বল হয়ে পড়লে বাড়ির দামের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, ইরান যুদ্ধের পরিণতি এখনও অনিশ্চিত এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও দুর্বল। তাই সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে তাড়াহুড়ো করার কোনো পরিকল্পনা নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি সর্বশেষ বৈঠকে মূল সুদের হার তিন দশমিক সাত পাঁচ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজার বর্তমান ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না। তবে আপাতত বাজারে সতর্কতা ও অনিশ্চয়তার আবহই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ শিশুদের দিয়ে হামলার ষড়যন্ত্রঃ রাশিয়া-ইরানের বিপজ্জনক গোপন নেটওয়ার্ক

লিজ ট্রাসের সামনে যতো চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে কোটি মানুষের ভরসা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, কিন্তু বাড়ছে শর্ত ও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি