TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

‘ইসরায়েল রক্ষা জরুরি নয়, আগে যুক্তরাষ্ট্র’—পেন্টাগনকে কঠিন বার্তা মার্কিন জেনারেলের

সামরিক সম্পদের ঘাটতির কারণে একই সময়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ডের (ইউকম) প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। তার এই সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে একাধিক অজ্ঞাতনামা মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, জেনারেল গ্রিনকেভিচ পেন্টাগনের কাছে লিখিতভাবে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ চেয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ না পেলে তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করবেন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ইউরোপীয় কমান্ডের দায়িত্ব শুধু ভূমধ্যসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পরিচালনা নয়; একই সঙ্গে ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ন্যাটোভুক্ত অঞ্চলে রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে।

স্পেনের রোটা নৌঘাঁটিতে ইউরোপীয় কমান্ডের পাঁচটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন থাকলেও গত সপ্তাহ পর্যন্ত এর মধ্যে মাত্র দুটি ভূমধ্যসাগরে সক্রিয় ছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে একাধিক কৌশলগত দায়িত্ব পালনের জন্য এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপীয় কমান্ডকে রাশিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেনারেল গ্রিনকেভিচের সতর্কবার্তায় মূল বার্তা হলো, বর্তমান সামরিক সক্ষমতা দিয়ে একই সঙ্গে সব ফ্রন্টে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ না পেলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা ও মিত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এ বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ইউরোপীয় কমান্ডও গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। একইভাবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার সামরিক তৎপরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পদের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জেনারেল গ্রিনকেভিচের সতর্কবার্তা শুধু একটি সামরিক চাহিদার বিষয় নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশল এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে।

সূত্রঃ ওয়াশিংটন পোস্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

বয়কটের পরও মালদ্বীপে পর্যটকদের জোয়ার, ভারতীয়রা হতবাক!

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে ইরানের নতুন নেতৃত্বঃ ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের অস্বীকৃতি

কৃত্রিম মিষ্টিকে ক্যান্সারজনক ঘোষণা করলেও সমস্যা হবে না কোকাকোলার

নিউজ ডেস্ক