TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইহুদি থেকে মুসলিম হওয়া হাওয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ বিশ্বকাপে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কোরআন

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যখন ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে, তখন বিশ্বকাপের দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। হাওয়া নামের এক নারী, যিনি জন্মসূত্রে ইহুদি ছিলেন এবং দুই দশকেরও বেশি আগে ইসলাম গ্রহণ করেন, প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে বিনামূল্যে পবিত্র কোরআনের অনুবাদ বিতরণ করছেন।

ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত কোরআনের কপি বিশ্বকাপ ভেন্যুর আশপাশ, জনসমাগমস্থল এবং পর্যটন এলাকায় আগ্রহী মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন তিনি। তার লক্ষ্য মুসলমানদের সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষা সম্পর্কে মানুষকে জানার সুযোগ করে দেওয়া।

হাওয়া জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এই সুযোগকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ দাওয়াহ কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন। তার মতে, অনেক মানুষ ইসলাম সম্পর্কে শুনেছেন, কিন্তু ধর্মটির মূল শিক্ষা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাননি। তাই কোরআনের অনুবাদ বিতরণের মাধ্যমে তিনি সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করতে চান।

বিশ্বকাপকে ঘিরে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনও ব্যাপক দাওয়াহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে অতীতেও ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্যকেন্দ্র, প্রদর্শনী, উন্মুক্ত আলোচনা এবং ধর্মীয় সাহিত্য বিতরণের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহে হাজারো দর্শনার্থী বিভিন্ন দাওয়াহ স্টল পরিদর্শন করেছিলেন।

হাওয়ার ব্যক্তিগত জীবনকাহিনিও অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি জানান, ইসলাম গ্রহণের পর তার বাবা প্রথমে তার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি এবং একপর্যায়ে তাকে ত্যাজ্যও করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ আলোচনার পর প্রায় এক দশক আগে তার বাবাও ইসলাম গ্রহণ করেন। হাওয়ার ভাষায়, এটি তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন ও স্মরণীয় ঘটনাগুলোর একটি।

তিনি বলেন, “মানুষকে জোর করে কোনো কিছু গ্রহণ করানো নয়, বরং সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। কেউ যদি ইসলাম সম্পর্কে জানতে চান, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজন শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও সংলাপেরও একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই হাওয়ার মতো অনেক স্বেচ্ছাসেবক বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের কাছে নিজেদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

বিশ্বকাপের উৎসবমুখর পরিবেশে হাওয়ার এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

সূত্রঃ দ্য হেডলাইনস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলায় ব্রিকসের বিভক্ত প্রতিক্রিয়া, নেতৃত্বে ভারতের সতর্ক কূটনীতি

হজ করতে সাইকেল চড়ে প্যারিস হতে মক্কায়

বৃটিশ রাজার ফ্রান্স সফর বাতিল, ফ্রান্সের অবস্থা থমথমে