22.5 C
London
June 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘উত্তরের রাজা’ থেকে ডাউনিং স্ট্রিটের পথে—অ্যান্ডি বার্নহামের উত্থানের গল্প

ব্রিটিশ রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম অ্যান্ডি বার্নহাম। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ ঘোষণার পর লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। দলীয় সংসদ সদস্যদের ব্যাপক সমর্থন, সাবেক মন্ত্রীদের প্রকাশ্য সমর্থন এবং সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে বড় জয় তাকে ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

অ্যান্ডি বার্নহামের জন্ম ১৯৭০ সালের ৭ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের মার্সিসাইড অঞ্চলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দ্রুতই তিনি জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। প্রায় পঁচিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

লেবার সরকারের আমলে তিনি সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নানা সংস্কার উদ্যোগের কারণে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

তবে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনেও তিনি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। ২০১৭ সালে বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন, গৃহহীনতা মোকাবিলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ তাকে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে অনেক বিশ্লেষক ‘উত্তরের রাজা’ উপাধি দিয়েছেন।

লেবার পার্টির নেতৃত্ব পাওয়ার জন্য বার্নহাম এর আগেও একাধিকবার চেষ্টা করেছেন। যদিও তিনি সফল হননি, তবে দলের ভেতরে তার প্রভাব কখনও কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকলে বার্নহামকে বিকল্প নেতা হিসেবে সামনে আনা হয়। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে, সুযোগ পেলে তিনি লেবার পার্টিকে নতুনভাবে গড়ে তুলবেন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনবেন।

চলতি মাসে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রায় এক দশক পর তিনি আবারও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফিরে আসেন। এরপর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা ওয়েস স্ট্রিটিংসহ অনেক শীর্ষ নেতা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তিনি একই সঙ্গে মধ্যপন্থী ও জনমুখী রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। একদিকে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সরকারি সেবা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের পক্ষে তিনি সোচ্চার; অন্যদিকে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়েও বাস্তববাদী অবস্থান গ্রহণ করেন। ফলে দলটির বিভিন্ন মতাদর্শিক গোষ্ঠীর কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে এখন ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে যে, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে তিনিই সবচেয়ে কার্যকর নেতা হতে পারেন।

তবে তার সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। উচ্চ সরকারি ঋণ, অর্থনৈতিক চাপ, জনসেবার সংকট এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে তাকে। পাশাপাশি তিনি ক্ষমতায় এলে করনীতি, সরকারি ব্যয় এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে কী অবস্থান নেবেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে, স্থানীয় প্রশাসনের জনপ্রিয় মেয়র থেকে জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা অ্যান্ডি বার্নহাম এখন ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। কিয়ার স্টারমারের বিদায়ের পর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এই অভিজ্ঞ রাজনীতিকের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

নতুন সহায়তা স্কিম ‘হাই স্ট্রিট ভাউচার’ ইস্যু শুরু অক্টোবরে

অনলাইন ডেস্ক

হয়রানির ফলে বিরতিতে গেলেন লেবার এমপি আপসানা

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে খাবার ডেলিভারির আড়ালে যৌন অপরাধঃ কারাদণ্ড পেলেন ডেলিভারি ড্রাইভার