উত্তর আয়ারল্যান্ডে অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত, আটক, গ্রেপ্তার এবং দেশ থেকে অপসারণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কমন ট্রাভেল এরিয়া (সিটিএ) রুটগুলোকে কেন্দ্র করে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তা এবং বর্ডার ফোর্স সদস্যদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিমান ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ‘অপারেশন গাল’ নামে পরিচিত গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় এক হাজার অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সময়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২ হাজার ২৩৩ জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও অপসারণের উদ্দেশ্যে ২ হাজার ৬৮২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারের শেষ ২১ মাসের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন ইউনিয়নিস্ট রাজনৈতিক দলগুলো আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে অবৈধ প্রবেশের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অনেক ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
সরকার জানিয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের প্রায় ৭০ শতাংশই পরিচালিত হয় ‘অপারেশন গাল’-এর মাধ্যমে। এই কর্মসূচির আওতায় গত বছর ৯০০-এর বেশি অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা কমন ট্রাভেল এরিয়ার নিয়ম অপব্যবহার বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব অভিযানে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ছিলেন ৮৩ জন রোমানিয়ান, ৪৪ জন আলবেনীয় এবং ৩০ জন আফগান নাগরিক।
এদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসনে অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বর্তমানে ২ হাজার ৩৭৯ জনে নেমে এসেছে, যা আগের সময়ের তুলনায় কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কমন ট্রাভেল এরিয়া বা সিটিএ হলো যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যার আওতায় ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকরা দুই অঞ্চলের মধ্যে প্রায় বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারেন। তবে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভিসা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
যদিও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া কাউকে সিটিএ এলাকায় পাওয়া গেলে তাকে আটক করে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে ফেরত পাঠানো সম্ভব, তবে কেউ আশ্রয় প্রার্থনা করলে তার আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে বহিষ্কার করা যায় না। সেক্ষেত্রে তাকে যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়।
অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ডের বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, কমন ট্রাভেল এরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের যৌথ দায়িত্ব। বিভাগটি জানিয়েছে, গত মার্চে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্য-আয়ারল্যান্ড শীর্ষ সম্মেলনে উভয় দেশ অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে, যাতে সিটিএ ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে লেবার সরকার একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আশ্রয় ও অভিবাসন নীতিকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধরনের অভিযানের প্রভাব এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার নিয়ে নজর রাখছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

