10.2 C
London
February 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

এআই অপব্যবহারে কড়া সতর্কবার্তাঃ আপার ট্রাইব্যুনালের কঠিন বার্তা ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের

যুক্তরাজ্যের আপার ট্রাইব্যুনাল – ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম চেম্বার ইমিগ্রেশন মামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) অপব্যবহার এবং ভুয়া আইনি রায় উদ্ধৃতির ঘটনায় আইনজীবীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে।

 

নতুন রিপোর্টেড ‘হামিদ’ সিদ্ধান্তে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আইনি যুক্তি উপস্থাপনের আগে প্রতিটি উদ্ধৃতি যথাযথভাবে যাচাই করা আইনজীবীদের পেশাগত বাধ্যবাধকতা।

রায়টি হলো ইউকে অ্যান্ড আর (অন দ্য অ্যাপ্লিকেশন অব মুনির) ভার্সেস সেক্রেটারি অব স্টেট ফর দ্য হোম ডিপার্টমেন্ট (এআই হ্যালুসিনেশনস; সুপারভিশন; হামিদ) [২০২৬] ইউকেইউটি ০০০৮১ (আইএসি)। এতে দুটি জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদনের শুনানি হয়, যেখানে দাখিল করা গ্রাউন্ড ও সহায়ক নথিতে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন মামলার উদ্ধৃতি পাওয়া যায়।

ট্রাইব্যুনাল জানায়, এসব কেস রেফারেন্স অজ্ঞ এআই টুল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। সেগুলো ইমিগ্রেশন আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতির সমর্থনে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব ছিল না। যথাযথ যাচাই ছাড়া আদালতে জমা দেওয়াকে গুরুতর পেশাগত ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একটি ঘটনায় এক জুনিয়র ফি-আর্নার এআই সহায়তায় খসড়া তৈরি করলেও তা পর্যাপ্তভাবে যাচাই করেননি।

বিচারপতি লিন্ডসলি, ব্লান্ডেল ও কিথের বেঞ্চ বলেন, “আইন পেশাজীবীদের দায়িত্ব হলো ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনাল বা আপার ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত আইনি যুক্তি তথ্যগত ও আইনগতভাবে সঠিক কিনা তা নিশ্চিত করা। ভুয়া কেস উদ্ধৃতি পেশাগত দায়িত্ব লঙ্ঘন এবং ট্রাইব্যুনালের সময় অপচয়।”

সুপারভিশন বা তদারকির প্রশ্নে ট্রাইব্যুনাল আরও কঠোর অবস্থান নেয়। কোনো সলিসিটর কাজ অধীনস্থের কাছে অর্পণ করলেও চূড়ান্ত দায় তারই থাকবে। খসড়া যাচাইয়ে ব্যর্থ হলে বিষয়টি সলিসিটরস রেগুলেশন অথরিটি বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থায় রেফার হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে, জুনিয়রের ভুয়া উদ্ধৃতি ধরতে ব্যর্থ সুপারভাইজার নিজের ভুল না ধরতে পারা আইনজীবীর চেয়েও বেশি দায়ী হতে পারেন।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, জেনারেটিভ এআই টুল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ কাল্পনিক বা ‘হ্যালুসিনেশন’ ধরনের রায় তৈরি করতে পারে। ইমিগ্রেশন বিচারব্যবস্থার সীমিত সম্পদ মিথ্যা তথ্য যাচাই করতে ব্যয় করা যায় না বলেও ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে। ভুল উদ্ধৃতিকে বিচারকদের জন্য “ফুলস এর্যান্ড” বা নিরর্থক অনুসন্ধান হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

প্রক্রিয়াগতভাবে আপার ট্রাইব্যুনালের জুডিশিয়াল রিভিউ ক্লেইম ফরম সংশোধন করা হয়েছে। এখন আইনগত প্রতিনিধিকে ‘স্টেটমেন্ট অব ট্রুথ’-এ নিশ্চিত করতে হবে যে উদ্ধৃত প্রতিটি অথরিটি বাস্তব, প্রদত্ত সাইটেশন ব্যবহার করে খুঁজে পাওয়া যায় এবং উল্লিখিত আইনি প্রস্তাবকে সমর্থন করে। ভুল তথ্যসহ এ ধরনের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরি বডিতে রেফার করা হবে।

ট্রাইব্যুনাল আরও সতর্ক করেছে, উন্মুক্ত উৎসের এআই টুল—যেমন চ্যাটজিপিটি—এ ক্লায়েন্টের গোপন নথি আপলোড করলে তা কার্যত পাবলিক ডোমেইনে চলে যেতে পারে, যা ক্লায়েন্ট কনফিডেনশিয়ালিটি লঙ্ঘন এবং লিগ্যাল প্রিভিলেজ পরিত্যাগের শামিল। এমন আচরণ এসআরএ-তে রেফারযোগ্য হতে পারে এবং প্রয়োজনে ইনফরমেশন কমিশনার্স অফিসেও জানাতে হতে পারে।

একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি রিপোর্ট করায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে অন্য ঘটনায় সুপারভাইজিং সলিসিটরকে এসআরএ-তে রেফার করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় ইমিগ্রেশন আইনচর্চায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া আদালতে কোনো তথ্য উপস্থাপন করলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে আপার ট্রাইব্যুনাল।

সূত্রঃ এ আই এন

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে একটি ঘরে আগুন লেগে চারজনের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের একমাত্র জগন্নাথ মন্দির ভেঙে ফেলা হচ্ছে

ব্রিটিশ পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্য সতর্কতা