লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী কালো ট্যাক্সি একসময় ছিল রাজধানীর অন্যতম পরিচিত প্রতীক। কিন্তু পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে একটি বহুস্তর গাড়ি পার্ক এখন সেই ট্যাক্সিগুলোর নীরব “কবরস্থানে” পরিণত হয়েছে। ক্লেমেন্টস রোডের সিটি পার্কের ওপরের তলায় সারি সারি পরিত্যক্ত কালো ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে—যার অনেকগুলোর চাকা পাংচার, কাচ ভাঙা এবং পাশের আয়না ঝুলে রয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে এই দৃশ্য একই সঙ্গে ভুতুড়ে এবং বিষণ্ন। যে গাড়িগুলো একসময় লন্ডনের রাস্তায় দিন-রাত যাত্রী বহন করত, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় কিছু ট্যাক্সিতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে ২০২০ সালের মহামারিকে। লকডাউনের সময় মানুষ ঘরে থাকায় ট্যাক্সির চাহিদা প্রায় ২০ শতাংশে নেমে আসে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও রাজধানীতে বায়ুদূষণ কমানোর লক্ষ্যে কঠোর পরিবেশনীতি কার্যকর হওয়ায় পুরোনো ট্যাক্সিগুলোর বড় অংশ আর রাস্তায় ফিরতে পারেনি।
এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে অতি-নিম্ন নির্গমন অঞ্চল নীতি। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা পরে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে নির্ধারিত নির্গমন মান পূরণ করতে না পারা গাড়িকে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫০ পাউন্ড ফি দিতে হয়। ২০১৫ সালের আগে তৈরি হওয়া অধিকাংশ কালো ট্যাক্সিই এই মানদণ্ড পূরণ করতে পারে না, ফলে অনেক মালিক সেগুলো ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন।
ইলফোর্ডের গাড়ি পার্কে থাকা ট্যাক্সিগুলোর নম্বরপ্লেট পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেশিরভাগ গাড়িই নতুন নির্গমন নীতির শর্ত পূরণ করতে অক্ষম। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত খরচ এড়াতে অনেক মালিক এগুলো সেখানে ফেলে রেখেছেন, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরো জায়গাটি গাড়ির কবরস্থানে রূপ নিয়েছে।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, লন্ডনের কাছেই রয়েছে আরেকটি রহস্যময় পরিত্যক্ত স্থান—লন্ডন সাউথএন্ড বিমানবন্দর ও স্কাইলার্ক হোটেলের মাঝামাঝি এলাকায় ধুলায় ঢাকা পরিত্যক্ত উড়োজাহাজের একটি প্রান্তর। ধারণা করা হয়, সেখানে থাকা কয়েকটি উড়োজাহাজের ইতিহাস ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে

