11.2 C
London
October 24, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

সুপার এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাবঃ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃত্যুর আশঙ্কা

একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি মানুষ তাপজনিত কারণে মারা যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষণায় এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় এই সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা গড়ে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে অত্যন্ত গরম দিনের সংখ্যা প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং প্রচণ্ড গরমে বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের ওপর বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, অতিরিক্ত মৃত্যুর সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে পারে অপেক্ষাকৃত কম আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। এসব অঞ্চলে উচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি পর্যাপ্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং তাপপ্রবাহ মোকাবিলার অবকাঠামোর ঘাটতি থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

দেশভিত্তিক হিসাবে নাইজেরিয়ায় সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। দেশটিতে প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৯ হাজার ৩০০ এবং সুদানে প্রায় ১৭ হাজার ৬০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, ব্রাজিল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকাতেও তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি মৃত্যুর হিসাব স্বাভাবিকভাবে প্রতিবছর তাপজনিত যেসব মৃত্যু ঘটে, সেগুলোর অতিরিক্ত। একইভাবে এল নিনোর কারণে বন্যা, খরা বা অন্যান্য দুর্যোগে সম্ভাব্য মৃত্যুর হিসাবও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য প্রাণহানি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে তাপমাত্রার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রচণ্ড গরমের সময় মানুষের আশ্রয়ের জন্য শীতল ও নিরাপদ কেন্দ্র স্থাপন, তাপপ্রবাহের সময়ে হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চিকিৎসাকর্মী প্রস্তুত রাখা এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তাবিধি কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, তাপপ্রবাহের আগেই প্রস্তুতি নেওয়া গেলে সম্ভাব্য মৃত্যুর একটি বড় অংশ এড়ানো সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও অঞ্চলে স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস, জনসচেতনতা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব\ শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়/ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

ইরানে হামলা করতেও পারি, নাও করতে পারিঃ ট্রাম্প

বিক্রির দুই বছর পর ঠিকমতো কাজ করেনা স্মার্ট পণ্য

হুথিদের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর লড়াইয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সৌদি আরবের