যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় গয়না ও ফ্যাশন ব্র্যান্ড অ্যাকসেসরিজ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্লেয়ার্স তাদের সব স্টোর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে। এর ফলে এক হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারাবেন এবং ব্রিটিশ হাই স্ট্রিটে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ব্র্যান্ডটির উপস্থিতির অবসান ঘটবে।
প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিষ্ঠান ‘ক্রল’ নিশ্চিত করেছে, ক্লেয়ার্সের সব দোকান সোমবার থেকেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করেছে এবং সব স্টোর কর্মীকে চাকরি হারানোর বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ধাপে ধাপে শাখা বন্ধের পর কর্মীদের শেষ স্টক ও সরঞ্জাম গুছিয়ে নিতে বলা হয়, যাতে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সব আউটলেট বন্ধ করা যায়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে যাওয়ার সময় ক্লেয়ার্সের ১৫৪টি স্টোর ছিল। এর আগে আগস্টে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মডেলা ক্যাপিটাল চেইনটির প্রায় অর্ধেক স্টোর অধিগ্রহণ করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
সেই সময় মডেলা ১৫৪টি শাখা অধিগ্রহণ করে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি চাকরি রক্ষা করেছিল। তবে তারা যে ১৪৫টি শাখা কিনেনি, সেগুলো গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে প্রশাসকদের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে ক্লেয়ার্সের ৩৫৬টি কনসেশন স্টোর—যার মধ্যে অনেকগুলো আসদা সুপারমার্কেটের ভেতরে অবস্থিত—আপাতত এই শাখাগুলো সিদ্ধান্তের বাইরে রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ক্লেয়ার্স ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। নতুন মালিক খুঁজে বের করার আলোচনা এখনো চলছে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে ফরাসি উদ্যোক্তা জুলিয়েন জারজুরার নাম সামনে এসেছে, যিনি ইউরোপের কয়েকটি দেশে এই ব্র্যান্ড পরিচালনা করেন।
ক্রল এক বিবৃতিতে জানায়, একটি আগ্রহী পক্ষ কয়েকটি সাইটের জন্য নতুন লিজ নেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাড়িওয়ালার সঙ্গে আলোচনা করছে।
তবে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে কারণ ক্লেয়ার্সের যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট ইতোমধ্যেই “স্থগিত” করা হয়েছে এবং গ্রাহকেরা আর সেখানে পণ্য কিনতে পারছেন না।
বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের কাছে জনপ্রিয় এই ব্র্যান্ডটি দীর্ঘদিন ধরে গয়না, ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ এবং কান ফোঁড়ানোর সেবার জন্য পরিচিত ছিল।
১৯৯৬ সালে অ্যাকসেসরিজ চেইন বো জ্যাংলস অধিগ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লেয়ার্স যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে। ১৯৬১ সালে শিকাগোতে প্রতিষ্ঠিত এই ব্র্যান্ডটি পরে ব্রিটিশ শপিং সেন্টার ও হাই স্ট্রিটের পরিচিত নাম হয়ে ওঠে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা, বিশেষ করে অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্ম এবং টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ক্লেয়ার্সের বিক্রি কমতে থাকে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ক্লেয়ার্সের মূল প্রতিষ্ঠান সাত বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার দেউলিয়া হতে সুরক্ষা চাইলে যুক্তরাজ্য শাখার সংকট আরও গভীর হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, চেশায়ার ওকস, সাটন কোল্ডফিল্ড, স্টকপোর্ট, ওয়াটফোর্ড, ব্যাংগর ও সুইন্ডনের শাখাগুলো ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। রমফোর্ড, অক্সফোর্ড এবং চেস্টারের শাখাগুলোও “বন্ধ হয়ে যাচ্ছে”।
মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ক্রল জানায়, সরবরাহকারী, বাড়িওয়ালা এবং কর্মীদেরসহ অসুরক্ষিত পাওনাদারদের মোট পাওনা ১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড পরিশোধ করা সম্ভব হবে না বলে তারা মনে করছে। তবে ৫৫ লাখ পাউন্ডের সুরক্ষিত ঋণধারী মডেলা অন্তত কিছু অর্থ ফেরত পেতে পারে।
এদিকে মডেলার আরেক ব্যবসা টিজি জোন্সেও বড় ধরনের পুনর্গঠনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে ক্লেয়ার্সের বিদায় শুধু একটি ব্র্যান্ডের পতন নয়, বরং ব্রিটিশ হাই স্ট্রিটে পরিবর্তিত খুচরা বাজারের জন্য আরেকটি বড় অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

