এপস্টিন কাণ্ডে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিলেন বিল ক্লিনটন, বললেন—“আমি কোনো ভুল করিনি”
দণ্ডিত যৌন পাচারকারী জেফ্রি এপস্টিন–এর সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির সামনে বন্ধ কক্ষে জবানবন্দি দেওয়ার পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না এবং তিনি “কোনো ভুল করেননি”।
গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নতুন নথি ঘিরে ওয়াশিংটনে আবারও আলোচনা তীব্র হয়। বিশেষ করে ১৯৯০–এর দশকের শেষভাগ ও ২০০০–এর দশকের শুরুতে এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে ক্লিনটনের ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয়েই বিস্তারিত জানতে চান আইনপ্রণেতারা।
বিল ক্লিনটন স্বীকার করেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল; তবে সেটিকে তিনি সীমিত ও স্বল্প সময়ের বলে উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, এপস্টিনের অপরাধ প্রকাশ্যে আসার বহু বছর আগেই তাদের যোগাযোগ শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “সে কী করছিল সে বিষয়ে সামান্য ধারণা পেলেও আমি কখনো তার বিমানে উঠতাম না।”
একই সঙ্গে তিনি এপস্টিন মামলার নিষ্পত্তিকে “অতিরিক্ত সুবিধাজনক সমঝোতা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার দাবি, প্রকৃত তথ্য জানা থাকলে তিনিও এপস্টিনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেন।
দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর কেন তিনি সাক্ষ্য দিতে সম্মত হলেন—এ প্রশ্নের জবাবে ক্লিনটন বলেন, এটি নীতির প্রশ্ন। “আমেরিকা গড়ে উঠেছে এই বিশ্বাসে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এমনকি প্রেসিডেন্টও নয়,” উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, তারা শুধু বিচার নয়, মানসিক আরোগ্যেরও অধিকার রাখেন।
তবে তদন্তকারীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ নতুন কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলেও দাবি করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। এপস্টিনের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি কখনো সন্দেহজনক কিছু প্রত্যক্ষ করেননি বলে জানান।
প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার ক্লিনটনের সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং আরও ব্যক্তিকে তলব করা হবে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা লরেন বুবের্ট সামাজিক মাধ্যমে ক্লিনটনের ব্যাখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করেন, যা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এই তদন্তে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও। সমনের মুখে কংগ্রেসের সামনে কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষ্য দেওয়ার ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সাক্ষ্য শেষে বিল ক্লিনটন পূর্ণ স্বচ্ছতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার সম্পূর্ণ জবানবন্দি প্রকাশ পেলে অন্যরাও নিজেদের জানা তথ্য নিয়ে কংগ্রেসের সামনে আসতে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের কাছে এপস্টিন–সংক্রান্ত অবশিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
তদন্তের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে জেমস কোমার বলেন, প্রয়োজনে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ডাকা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক–এর নামও আলোচনায় এসেছে। ফলে এপস্টিন–সম্পর্কিত এই তদন্ত আগামী দিনে আরও বিস্তৃত ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য ডেইলি বিস্ট নিউজ
এম.কে

