TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

এসাইলাম ইস্যুতে ‘জনমত বদলাতে’ চলচ্চিত্র বানাচ্ছে বিবিসিঃ নতুন প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি শরণার্থী এক ডেলিভারি চালকের জীবন নিয়ে ‘পেপার্স’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে। তবে চলচ্চিত্রটি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নির্মাতা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে জনমতের ‘বয়ান পরিবর্তন’ বা ন্যারেটিভ চেঞ্জ-এর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টুডিও ডেডবিট ফিল্মস চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছে। প্রযোজনা দলের কয়েকজন সদস্য করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত ন্যারেটিভ চেঞ্জ কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। এসব কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা।

নতুন চলচ্চিত্রটি ২০২৩ সালে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাতার’ থেকে অনুপ্রাণিত। সেখানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী এক ব্যক্তির জীবনসংগ্রাম, বৈরী অভিবাসন ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া এবং বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ডেলিভারি চালক হিসেবে অবৈধভাবে কাজ করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিবি নিউজ আরও দাবি করেছে, ওই চলচ্চিত্রের শেষাংশে যুক্তরাজ্য সরকারের সমালোচনা করে শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এছাড়া এটি রিফিউজি অ্যাকশন-এর ‘লিফট দ্য ব্যান’ প্রচারণার সঙ্গেও যুক্ত ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাউন্টারপয়েন্ট প্রোডাকশন্স নামের একটি দাতব্য সংস্থার কর্মশালায়ও নির্মাতারা অংশ নিয়েছেন। সংস্থাটির লক্ষ্য অভিবাসী ও শরণার্থীদের গল্পের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুতি সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। গত পাঁচ বছরে সংস্থাটি আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ড থেকে প্রায় চার লাখ পাউন্ড সরকারি অনুদান পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের জবাবে বিবিসি বলেছে, তাদের সব কনটেন্টের ওপর পূর্ণ সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য দাতব্য সংস্থা বা বাহ্যিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা গণমাধ্যমে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বিবিসির কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হয় এবং সব চলচ্চিত্র সেই নীতিমালার ভিত্তিতেই নির্মিত হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কোয়েশ্চন টাইম অনুষ্ঠানে দুই আশ্রয়প্রার্থীর উপস্থিতি এবং তাদের একটি অভিবাসন-সহায়ক সংস্থার মাধ্যমে পূর্বপ্রস্তুতি দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও বিবিসি সমালোচনার মুখে পড়ে। এছাড়া শিশুদের অনুষ্ঠান পিকল স্টর্ম-এ অভিবাসন বিষয়ে বার্তা উপস্থাপনে কিছু দাতব্য সংস্থার সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে।

তবে বিবিসি জোর দিয়ে বলেছে, কোনো বাহ্যিক সংস্থার সম্পাদনা বা প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে জিবি নিউজ জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তারা বিবিসি এবং স্টুডিও ডেডবিট ফিল্মস-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ধর্মঘট নিয়ে এনএইচএস প্রধানের কপালে চিন্তার ভাঁজ

যুক্তরাজ্যে অ্যাডাম খান হত্যাকাণ্ডঃ কিশোরীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার

যুক্তরাজ্য লুটন কাউন্সিলে দেখা দিয়েছে ছাড়পোকা আতঙ্ক