14.5 C
London
August 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

এসাইলাম ও মানবাধিকার আবেদনকারীদের জন্য আশার বার্তাঃ নতুন আবেদন করার নিয়ম পরিষ্কার

যুক্তরাজ্যে কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আবেদনকারী চাইলে সেটি অন্য ধরনের আবেদনে পরিবর্তন করতে পারবেন। মানবাধিকারভিত্তিক আবেদনও এর বাইরে নয়—সম্প্রতি নির্দেশনা সংশোধন করে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে হোম অফিস।

ইমিগ্রেশনবিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্রি মুভমেন্ট-এর ২০ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন বিধিমালার ৩৪বিবি অনুচ্ছেদে আগে থেকেই যেকোনো আবেদন পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। কিন্তু হোম অফিসের আগের নির্দেশনায় মানবাধিকারভিত্তিক আবেদন পরিবর্তন করা যায় না—এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছিল।

সংশোধিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কারও যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বা অবস্থানের অনুমতির আবেদন এখনো নিষ্পত্তি না হলে তিনি পরবর্তীতে নতুন আবেদন করলে সেটি আগের আবেদনের পরিবর্তিত আবেদন হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর হোম অফিস সর্বশেষ আবেদনটিই বিবেচনা করবে।

তবে আগের আবেদনের সঙ্গে মানবাধিকার দাবি যুক্ত থাকলে সেটি শুধু আবেদন পরিবর্তনের কারণে বাতিল হয়ে যাবে না। নতুন আবেদনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ওই দাবির পরবর্তী অবস্থান।

নতুন আবেদন অনুমোদিত হলে আগের আবেদনের সঙ্গে থাকা অনিষ্পন্ন মানবাধিকার দাবি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। আর নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আগের মানবাধিকার দাবি নিষ্পত্তি না হয়ে থাকলে সেটি বহাল থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে হোম অফিস তা বিবেচনা করবে।

বিষয়টি বোঝাতে প্রতিবেদনে অক্টাভিয়ান নামের এক আবেদনকারীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের ২৯ জুন যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে অবিবাহিত সঙ্গীর ভিত্তিতে থাকার আবেদন করেন। তার আবেদন নিষ্পত্তির আগেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

পরে একটি অনুমোদিত স্পনসর প্রতিষ্ঠান তাকে চাকরির জন্য স্পনসর করতে রাজি হয় এবং প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ সনদ দেয়। এরপর অক্টাভিয়ান তার আগের আবেদনটি পরিবর্তন করে দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য আবেদন করেন।

৫ আগস্ট তিনি নতুন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ফি পরিশোধ, প্রয়োজনীয় নথি জমা এবং নতুন করে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করেন। ১৪ আগস্ট তার দক্ষ কর্মী ভিসার আবেদন অনুমোদিত হয়।

এ ক্ষেত্রে আগের আবেদনটি আর হোম অফিসের কাছে আলাদাভাবে নিষ্পত্তির জন্য থাকে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম আবেদনের জন্য দেওয়া ফি থেকে সামান্য প্রশাসনিক খরচ বাদ দিয়ে বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা।

তবে নতুন আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ৩৪বিবির ৭ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আগের আবেদনের সঙ্গে মানবাধিকার দাবি থাকলে এবং সেটি পরিবর্তন করার পর নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে, আগের মানবাধিকার দাবি বহাল থাকতে পারে।

এ অবস্থায় হোম অফিসকে পরবর্তী সময়ে ওই মানবাধিকার দাবি বিবেচনা করতে হবে। তবে বাস্তবে এই প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর হয়, তার খুব বেশি নজির নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিবেদনের লেখক অ্যালেক্স পিলেটস্কা।

তার মতে, এমন ঘটনা বিরল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো—কেউ সাধারণত মানবাধিকারভিত্তিক আবেদন থেকে দক্ষ কর্মী বা অন্য নির্দিষ্ট কোনো ইমিগ্রেশন রুটে তখনই পরিবর্তন করেন, যখন নতুন আবেদনটি অনুমোদনের বিষয়ে তার যথেষ্ট আস্থা থাকে।

ফলে নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আগের মানবাধিকার দাবি আলাদাভাবে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা বাস্তবে খুব কম দেখা যায়। লেখক জানিয়েছেন, তার প্রায় এক দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতায় এমন কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি।

নতুন নির্দেশনার ফলে আবেদনকারীদের জন্য অন্তত একটি বিষয় এখন পরিষ্কার: কোনো আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অন্য ইমিগ্রেশন রুটে আবেদন পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোন রুটে পরিবর্তন করা যাবে এবং নতুন আবেদনের যোগ্যতা কী—তা সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন বিধিমালা অনুযায়ী আলাদাভাবে পূরণ করতে হবে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

বহিষ্কারের আগে নাটকীয় ঘটনাঃ এক বন্দির কারণে বাতিল হোম অফিসের চার্টার ফ্লাইট

যুক্তরাজ্যে লেবারে নেতৃত্ব সংকটঃ কিয়ার স্টারমারকে সরানো নিয়ে গোপন আলোচনা

যুক্তরাজ্যে “সিক নোট সংস্কৃতি” বন্ধ করার পরিকল্পনায় ঋষি সুনাক

নিউজ ডেস্ক