TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপে ট্রাম্পঃ পরাজয়ের পরও নিজের সাফল্যের প্রচারে ব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পরও নিজের সাফল্য তুলে ধরতে ব্যস্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারবাজারের রেকর্ড উত্থানের কথা প্রচার করেছেন।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘শেয়ারবাজার আবারও নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অল্প সময়ের মধ্যে ৯১ দিন রেকর্ড উচ্চতায় ছিল, অথচ সময়কাল দুই বছরেরও কম। আপনাদের ৪০১(কে) অবসর সঞ্চয়ের হিসাব এখন আকাশচুম্বী। সবকিছুই রেকর্ড গড়ছে।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থানের পেছনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ও ভূমিকা রেখেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নির্বাচনের আগে থাকা অনিশ্চয়তা কমে যাওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কিলিক অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার র‍্যাচেল উইন্টার বলেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বাজারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগের অনিশ্চয়তা দূর হওয়া এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ না করাও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউসও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করে লেখা হয়, ‘জনসাধারণের অবগতির জন্য: ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’

এর আগে নির্বাচনের ফল আসতে শুরু করলে ট্রাম্প বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা আরও ভালো ফল করবে বলে তার ধারণা ছিল। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩০টি নির্বাচনী সমাবেশ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প সমর্থকদের বলেছিলেন, ভোটের লড়াইয়ে যেন তাকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে পরাজয়ের পর ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না। থাকলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জিততাম।’

অন্য এক পোস্টে তিনি জানান, নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের কারণ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভূমিকা পালন করবেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মেট্রোকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফলের পর প্রশাসনের মনোভাব ‘প্রতিরোধমূলক’। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরান সংঘাতের সমাধান হলে জ্বালানির দাম দ্রুত কমবে এবং ডেমোক্র্যাটদের নীতির কারণে ভোটারদের হতাশ হতে হবে।

এদিকে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সিনেটর জন অসফ পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের ফলের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে অসফ বলেন, মার্কিন জনগণ দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদও সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম আমেরিকান। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে তিনি এই জয় পান।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন। তাকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি নির্বাচিত হলে কংগ্রেসে তার জন্য বিশেষ মেটাল ডিটেক্টর বসানোর কথাও বলেছিলেন ট্রাম্প।

জয়ের পর এল-সাইয়েদ বলেন, তার নাম কিংবা ধর্মের কারণে মানুষ জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বহন করতে পারছে না—এমন নয়। চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সমস্যার কারণও তার ধর্মীয় পরিচয় নয়।

রিপাবলিকানদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন দেওয়া বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কও ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রসিকতা করে তিনি লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, এবার আমার নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী মহাকাশ লেজারগুলো কাজ করেনি।’

সূত্রঃ মেট্রো

এমকে

আরো পড়ুন

টুইটারের লোগো পরিবর্তনে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ

বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয়দের প্রতি অনলাইন বিদ্বেষ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে

নিউইয়র্কে নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আক্রমণ ট্রাম্পের