বেকারদের জন্য ইউনিভার্সাল ক্রেডিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টি। প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় কর্মহীন অবস্থায় বেনিফিট নেওয়া ব্যক্তিদের সিগারেট, অ্যালকোহল ও জুয়ায় সরকারি সহায়তার অর্থ ব্যয় করার সুযোগ বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাকরি হারানো বা কর্মহীন থাকা ব্যক্তিরা প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হারে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পাবেন। এই সময়ের মধ্যে তাদের চাকরিতে ফেরার সুযোগ খুঁজতে হবে।
এরপর পূর্ণ হারে বেনিফিট পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পূর্ববর্তী অবদান বিবেচনায় নেওয়া হবে। যারা বছরের পর বছর কর প্রদানের মাধ্যমে কল্যাণ ব্যবস্থায় অবদান রেখেছেন, তারা পূর্ণ হারে ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা ধরে রাখতে পারবেন।
অন্যদিকে, যারা পর্যাপ্ত সময় ধরে এই ব্যবস্থায় অবদান রাখেননি, তাদের ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের স্ট্যান্ডার্ড হার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ধরনের দাবিদারদের জন্য ভাতার অর্থ একটি ‘ব্যাক টু ওয়ার্ক’ প্রি-পেমেন্ট কার্ডে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই কার্ড দিয়ে খাবার, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য এবং বিভিন্ন বিল পরিশোধ করা যাবে। তবে সিগারেট, অ্যালকোহল ও বাজি বা জুয়া কেনার ক্ষেত্রে কার্ডটি ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে নগদ অর্থ উত্তোলনের সুযোগও বন্ধ থাকবে।
কনজারভেটিভ পার্টির হিসাব অনুযায়ী, এই সংস্কারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫৩৮ মিলিয়ন পাউন্ড সরকারি অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। দলটির দাবি, প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বেনিফিট দাবিদারকে নতুন ‘সাবসিস্টেন্স অ্যালাওয়েন্স’ ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।
পরিকল্পনায় কাজের অভিজ্ঞতাকেও বেনিফিটের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। একজন ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দাবিদার প্রতি দুই বছর কাজ করার বিনিময়ে পরবর্তী এক বছরের জন্য পূর্ণ হারে বেনিফিট পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।
আর যারা প্রয়োজনীয় পর্যায়ে অবদান রাখেননি, তাদের জন্য নির্ধারিত হার হবে পূর্ণ বেনিফিটের প্রতি এক পাউন্ডে ৭০ পেন্স।
তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অসুস্থতার কারণে কর্মবিরতিতে থাকা ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং কর্মরত অবস্থায় ইউনিভার্সাল ক্রেডিট গ্রহণকারীদের এই পরিকল্পনা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক বর্তমান কল্যাণ ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, যারা কাজ করতে পারেন তাদের কাজ করা উচিত। তার ভাষ্য, মানুষকে কাজে ফেরাতে সহায়তা করা কোনো শাস্তি নয় এবং সবচেয়ে কার্যকর কল্যাণ ব্যবস্থা হলো ভালো বেতনের চাকরি।
ব্যাডেনক আরও বলেন, যারা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তার দাবি, বর্তমান ব্যবস্থা কর্মী, করদাতা এবং প্রকৃতপক্ষে সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য অন্যায্য।
তবে কনজারভেটিভদের এই পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা রয়েছে। রিফর্ম ইউকের ট্রেজারি বিষয়ক মুখপাত্র রবার্ট জেনরিক প্রস্তাবটিকে এমন একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা তাদের ভাষায়, তৈরি করা সমস্যার ওপর সাময়িক সমাধান মাত্র।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির একজন মুখপাত্র পরিকল্পনাটিকে ‘বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ফলে প্রস্তাবিত সংস্কারের মূল বিতর্ক এখন একদিকে বেনিফিট ব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের প্রণোদনা ও সরকারি ব্যয় কমানো, অন্যদিকে সরকারি সহায়তার অর্থ কীভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় করা যাবে—এই দুই বিষয়কে ঘিরে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এমকে

