TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ইমিগ্রেশন রেইডঃ ২০২৬ সালে লন্ডনেই আটক ১,২৫০-এর বেশি

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে লন্ডনজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ১,২৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রেস্টুরেন্ট, নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা ও ডেলিভারি খাতসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে এসব অভিযান চালানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে যুক্তরাজ্যে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের কার্যক্রম দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশজুড়ে অবৈধভাবে কাজের অভিযোগে ৭,২৭০টি পরিদর্শন বা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। এসব অভিযানে ৪,৭৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে হিসাব করলে অবৈধ কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজারে পৌঁছেছে।

লন্ডনে পরিচালিত অভিযানের মধ্যে ওয়েস্টমিনস্টারের একটি লেবানিজ রেস্টুরেন্টে একাধিক দফায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে আটক করা হয়। ওই ঘটনার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। মার্চে ব্রোমলির একটি ক্যারাভান সাইটে নির্মাণ ও পরিচ্ছন্নতার কাজে অবৈধভাবে নিয়োজিত থাকার সন্দেহে আরও ১৮ জনকে আটক করা হয়।

সেন্ট্রাল লন্ডনের ইমিগ্রেশন, এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান মোরেনিকে ওয়েইনান্ড বলেন, রাজধানীজুড়ে প্রতিদিনই আইন প্রয়োগের কার্যক্রম চলছে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন মেনে চলার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যজুড়ে অবৈধভাবে কর্মরত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সংখ্যাও বেড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এমন ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেড়ে ২,৩৫৭ জনে পৌঁছেছে।

জুনে যুক্তরাজ্যজুড়ে এক সপ্তাহব্যাপী বহুসংস্থার সমন্বিত অভিযানের পর এসব পরিসংখ্যান সামনে আসে। ওই অভিযানে ৩৯টি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেন। তারা ৯০০টির বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ২৬৯টি অভিবাসন-সংক্রান্ত গ্রেপ্তার করেন। এর মধ্যে ৫৭ জনের সঙ্গে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, অবৈধ কর্মসংস্থান আইন মেনে চলা কর্মী ও বৈধ ব্যবসাগুলোর জন্য অন্যায্য পরিস্থিতি তৈরি করে। সরকার ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অতিরিক্ত অর্থ ও জনবল বিনিয়োগ করছে এবং অবৈধ কর্মসংস্থান ও আইনভঙ্গকারী নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

লন্ডনের সাউথহল ও ওয়েম্বলিতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে কয়েকটি আবাসিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে এমন ব্যক্তিদের আটক করা হয়, যারা অবৈধভাবে ডেলিভারি চালক হিসেবে কাজ করছেন বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, আগামী অক্টোবর থেকে গিগ-ইকোনমি ও জিরো-আওয়ার কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন আইনি বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়োগদাতাদের তাদের হয়ে কাজ করা প্রত্যেক ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

নতুন নিয়ম অমান্য করলে নিয়োগদাতাদের বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। প্রতিটি অবৈধ কর্মীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা, কোম্পানির পরিচালক পদে নিষেধাজ্ঞা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের বাজেট দ্বিগুণ এবং সংস্থাটির জনবল ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সরকার।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এফটিএ করার তাগিদ রুপা হকের

পুরনো মোবাইল-ল্যাপটপ থেকে সোনা বের করবে রয়্যাল মিন্ট

অনলাইন ডেস্ক

অপরাধ কমাতে বন্দির সংখ্যা কমাতে চান স্টারমার