মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আঞ্চলিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরান তাদের পাল্টা সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এটি তেহরান ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং হামলার পরবর্তী অবস্থা মূল্যায়নের কাজ চলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিরও কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
এদিকে সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় কুয়েত ও বাহরাইন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ইরানের নতুন করে হামলা শুধু দুই দেশই নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর আরব বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা দ্রুত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও পড়তে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

