মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যৌথ সামরিক জোটের বৈঠক থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে জানান, লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এ বিষয়ে “স্পষ্ট মতপার্থক্য” রয়েছে এবং যুক্তরাজ্য কোনো বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে জড়াবে না।
এই অবস্থান এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর তীব্র চাপের মধ্যেও। ট্রাম্প এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘটিত হামলার সময় যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে প্রাথমিক অস্বীকৃতির জন্য লন্ডনের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
যদিও পরবর্তীতে ইরান আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পর যুক্তরাজ্য সীমিত আকারে “প্রতিরক্ষামূলক” ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবুও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ব্রিটিশ বাহিনী কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান বা সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধে অংশ নেবে না।
কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্য বর্তমানে একটি আলোচনাভিত্তিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় দুই লক্ষ ব্রিটিশ নাগরিকের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
একই সঙ্গে, যুক্তরাজ্য জর্দান ও কাতারের মতো মিত্র দেশগুলোর আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানালেও বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া থেকে নিজেকে দূরে রাখছে।
আগামী ৬ এপ্রিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ওই সময়সীমার মধ্যে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কৌশল থেকে যুক্তরাজ্যের সরে থাকা ওয়াশিংটনের “সর্বোচ্চ চাপ” নীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও কিয়ার স্টারমার তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং অতীতের ভুল—বিশেষ করে ইরাক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি—এড়িয়ে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান এই অবস্থান যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

