ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস সোমবার কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য এবং টেকসই উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব বা ‘ইকো’ মসজিদ হিসেবে পরিচিত এই উপাসনালয়ে পৌঁছালে উপস্থিত মুসল্লি, স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে রাজাকে স্বাগত জানান। মসজিদের বাইরে গাড়ি থেকে নেমে তিনি প্রথমে আয়োজকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরে জুতা খুলে নামাজের কক্ষে প্রবেশ করে মুসল্লি ও কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে রাজা চার্লস বলেন, মসজিদটির নকশা, নির্মাণশৈলী এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে যত্নশীল পরিকল্পনা তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মসজিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি সেন্টার যুক্ত থাকায় এটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, পুরো কেমব্রিজ শহরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি আয়োজকদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করে সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানান।
কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিবেশবান্ধব নকশার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বেজমেন্টে স্থাপিত আধুনিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে গরম ও ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রাখে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি ও ব্যবহৃত পানি পুনর্ব্যবহার করে টয়লেট ফ্লাশ এবং বাগানের পরিচর্যায় ব্যবহার করা হয়। প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভবনজুড়ে বড় স্কাইলাইট নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে কম বিদ্যুৎ খরচের এলইডি বাতি ব্যবহার করা হয়।
মসজিদের ট্রাস্টি জেইনেপ কোস্কুন জানান, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমেও মসজিদের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে শীতল পরিবেশ বজায় থাকে। তিনি বলেন, রাজাকে আতিথ্য দিতে পারা তাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় এবং রাজা বিশেষভাবে মসজিদের বাগান ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সফরকালে রাজা তৃতীয় চার্লস কেমব্রিজ শহরের মর্যাদা লাভের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। পরে তাকে মসজিদ নিয়ে প্রকাশিত একটি গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসপূর্ণ কথোপকথনও করেন তিনি। ছুটির সময় তাদের অনুষ্ঠানে আসতে হওয়ায় মজা করে বলেন, আশা করি তিনি তাদের ছুটি খুব বেশি নষ্ট করেননি। ফেরার পথে রাস্তার পাশে ফুল হাতে অপেক্ষমাণ কয়েকজন শিশুর কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করলে উপস্থিত জনতার মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
একই দিনে রাজা চার্লস কেমব্রিজে নতুন হুইটল ল্যাবরেটরির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই গবেষণা কেন্দ্র কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিমান চলাচল ও জ্বালানি প্রযুক্তির উদ্ভাবনে কাজ করবে। ২০২৩ সালে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন রাজা নিজেই এবং এর আগেও তিনি একাধিকবার নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছিলেন।
রাজা চার্লসের প্রতিষ্ঠিত সাসটেইনেবল মার্কেটস ইনিশিয়েটিভ এই গবেষণা কেন্দ্রের জন্য বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই কেন্দ্র কেমব্রিজকে পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি গবেষণার বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। একই সঙ্গে রাজকীয় এই সফর আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের প্রতি ব্রিটিশ রাজপরিবারের অঙ্গীকারেরও প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

