18.9 C
London
August 31, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষা ছাড়াই দক্ষিণ কোরিয়ার ই-৭-৪ ভিসার সুযোগঃ বড় সুবিধা পাচ্ছেন বাংলাদেশি কর্মীরা

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য দক্ষ কর্মী ভিসায় যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সাময়িকভাবে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে পারলে এখন কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষা বা ভাষার সনদ ছাড়াই ই-৭-৪ দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়ন সংস্থা এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিষয়টি জানিয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষা বা ভাষার সনদ ছাড়াই ই-৭-৪ ভিসার আবেদন করার সুযোগ থাকবে। তবে আবেদনকারীকে ‘কে-পয়েন্ট ই-৭-৪’ পয়েন্ট ব্যবস্থায় মোট ৩০০ পয়েন্টের মধ্যে অন্তত ১৫০ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে।

তবে ভাষার যোগ্যতার এই ছাড় স্থায়ী নয়। ই-৭-৪ ভিসা নবায়নের সময় আবেদনকারীকে কোরিয়ান ভাষার সনদ জমা দিতে হবে। একইভাবে পরিবারের সদস্যদের দক্ষিণ কোরিয়ায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেও ভাষাগত যোগ্যতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

ই-৭-৪ ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে গত ১০ বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সাধারণভাবে অন্তত চার বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলেও কর্মস্থলের অবস্থান অনুযায়ী এ শর্তে ছাড় রয়েছে।

রাজধানী সিউলের বাইরে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে অন্তত তিন বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা থাকলে যোগ্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর জনসংখ্যা কম এমন নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করলে অন্তত দুই বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।

এর পাশাপাশি আবেদনকারীকে তার বর্তমান কর্মস্থলে কমপক্ষে এক বছর কাজ করতে হবে। আবেদনের সময় নিয়োগকর্তার সুপারিশপত্র এবং বছরে কমপক্ষে ২৬ মিলিয়ন ওন বেতনের ভিত্তিতে দুই বছরের চাকরির চুক্তিপত্রও প্রয়োজন হবে।

সাধারণ নিয়মে ই-৭-৪ ভিসার জন্য ‘কে-পয়েন্ট’ ব্যবস্থায় ২০০ পয়েন্ট প্রয়োজন হয়। কিন্তু চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত কোরিয়ান ভাষার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়ায় অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীরা ১৫০ পয়েন্ট থাকলেও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে ই-৯ ভিসায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকরা সর্বোচ্চ চার বছর ১০ মাস পর্যন্ত থাকার সুযোগ পান। অন্যদিকে, ই-৭-৪ দক্ষ কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ভিসা হওয়ায় এই ভিসায় পরিবর্তন করতে পারলে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘমেয়াদে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস ও কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

ফলে কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষায় সাময়িক এই ছাড় ই-৯ থেকে ই-৭-৪ ভিসায় পরিবর্তন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রয়োজনীয় কর্মঅভিজ্ঞতা, বেতন, চাকরির মেয়াদ ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করছেন, তাদের জন্য নতুন নিয়মটি ভিসা পরিবর্তনের পথ কিছুটা সহজ করতে পারে।

তবে শুধু ১৫০ পয়েন্ট অর্জন করলেই ই-৭-৪ ভিসা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীর কর্মঅভিজ্ঞতা, বর্তমান চাকরির মেয়াদ, বেতন, নিয়োগকর্তার সুপারিশ এবং অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।

ভিসা ও আবেদনসংক্রান্ত বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ইমিগ্রেশন কনট্যাক্ট সেন্টার ১৩৪৫ অথবা এইচআরডি কোরিয়া সেন্টার ১৫৭৭-০০৭১-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবেদন করার আগে প্রত্যেক কর্মীর নিজের পয়েন্ট, কর্মঅভিজ্ঞতা, বর্তমান চাকরির মেয়াদ, বেতন এবং নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সব শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না যাচাই করা জরুরি।

সূত্রঃ দক্ষিণ কোরিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়ন সংস্থা (এইচআরডি কোরিয়া), দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা

এম.কে

আরো পড়ুন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার গুরুত্ব কমছে ধীরে ধীরে

আওয়ামীলীগের উপর হতে আস্থা হারিয়েছে ভারতঃ বদলে যাচ্ছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের সমীকরণ

বিশ্বকাপের রঙে রঙিন বাংলাদেশ, অথচ নিজের ফুটবল অন্ধকারে