দেশে ফিরে পরিচয় পরিবর্তন করে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তৌহিদ ইসলাম ওরফে হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি মুদ্রাপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
সিআইডি জানায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরনী দাসের ছেলে হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০৮ সালে ঢাকার ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ২০১০ সালে তিনি অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসেন।
সংস্থাটির দাবি, ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করতেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকল দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনের তথ্যও পাওয়া গেছে, যা তদন্তকারীদের কাছে সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু ব্যক্তি তার হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করেছেন, যা তার পরিচিত পেশা বা আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে সিআইডি। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রাপাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পরিচালিত সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস ওরফে তৌহিদ ইসলাম। এরপর তার অতীত কর্মকাণ্ড ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। পলাশবাড়ীর সিআরআই কর্মকর্তা তন্ময় আহমদের সাথে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এম.কে

