ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত গাজা ‘শান্তি বোর্ডে’ যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এই বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্টারমারকে বোর্ডে বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়নি, তবে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে—স্টারমার প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বোর্ডের চূড়ান্ত সদস্য তালিকা ও কাঠামো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এই শান্তি বোর্ডের মূল দায়িত্ব হবে সাময়িকভাবে গাজার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করা। বোর্ডে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই বোর্ডের সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে পারেন।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে মতবিরোধ থাকলেও কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সম্পর্কই স্টারমারের জন্য বোর্ডে যুক্ত হওয়ার পথ সুগম করেছে।
শুরুতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে এই বোর্ডে রাখার কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দেওয়া হয়। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনে তার ভূমিকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ব্লেয়ারের অংশগ্রহণে আপত্তি তোলে। এর ফলে তাকে নীরবে তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, শান্তি বোর্ড গঠনের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং এতে অংশ নিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতারাই এই বোর্ডে থাকবেন।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারকে স্টারমারের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি জানান, গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনাকে যুক্তরাজ্য সমর্থন করেছে এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি ও হামাসের অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণসহ বড় পরিসরের কাজ এখনো বাকি রয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে কিয়ার স্টারমারের ঘন ঘন বিদেশ সফর নিয়ে সমালোচনা উঠলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। লেবার পার্টির এমপিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে স্টারমার বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

