TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাঃ যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের যুক্তরাজ্যে আকৃষ্ট করতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিবাসন পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ভিসার অন্যতম বড় সুবিধা হলো, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী আবেদনকারীরা মাত্র তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদন পাওয়া গবেষকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা থাকা মানেই প্রত্যেক আবেদনকারী তিন বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাবেন—বিষয়টি এমন নয়। আবেদনকারী কোন শ্রেণির অনুমোদনের ভিত্তিতে ভিসা পেয়েছেন, তার ওপর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা নির্ভর করে। কিছু ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের যোগ্যতার সময়সীমাও প্রযোজ্য।

গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদন ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুদান বা পুরস্কার এবং অনুমোদিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক থাকলে যোগ্য গবেষকরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট গবেষণা অনুদানের মূল্য সাধারণত কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড হতে হয় এবং অনুদানের মেয়াদ অন্তত দুই বছর হতে হয়। পাশাপাশি আবেদনকারীকে ওই গবেষণা অনুদানের আওতায় নিজের কাজের অন্তত অর্ধেক সময় ব্যয় করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়।

এই ভিসার অন্যতম বড় সুবিধা হলো কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনতা। নির্দিষ্ট কোনো নিয়োগকর্তার সঙ্গে একইভাবে আবদ্ধ থাকতে হয় না। ফলে যোগ্য ভিসাধারীরা চাকরি পরিবর্তন, গবেষণার ধরন পরিবর্তন, পরামর্শক হিসেবে কাজ কিংবা নিজেদের গবেষণাভিত্তিক ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ পান।

অন্যদিকে, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজ করার শর্ত এবং নির্ধারিত বেতন কাঠামো রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ ক্ষেত্রে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার জন্য ন্যূনতম বার্ষিক বেতন ৪১ হাজার ৭০০ পাউন্ড অথবা সংশ্লিষ্ট পেশার নির্ধারিত বেতনসীমা—যেটি বেশি—তা পূরণ করতে হয়। গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসায় এ ধরনের সাধারণ ন্যূনতম বেতনসীমা নেই।

গবেষকদের জন্য বিদেশে অবস্থানের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। সাধারণভাবে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বছরে ১৮০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকলে ধারাবাহিক বসবাসের শর্তে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে রয়্যাল সোসাইটি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদন পাওয়া গবেষকদের গবেষণার প্রয়োজনে বিদেশে কাটানো নির্দিষ্ট সময় এই সীমার মধ্যে গণনা করা হয় না।

ফলে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে কাজ করা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য এই সুবিধাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার প্রয়োজনে নিয়মিত বিদেশে যাতায়াত করতে হলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যায়।

যুক্তরাজ্য সরকার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতেও আন্তর্জাতিক প্রতিভা আকৃষ্ট করার ওপর জোর দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, প্রকৌশলভিত্তিক জীববিজ্ঞান, অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ যোগাযোগব্যবস্থার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের কাজের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে যুক্তরাজ্যে উচ্চ দক্ষতার বিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য অভিবাসনের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা, চাকরি পরিবর্তনের স্বাধীনতা এবং নির্দিষ্ট ন্যূনতম বেতনসীমা না থাকায় গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

তবে আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু গবেষক বা বিজ্ঞানী হলেই এই ভিসা পাওয়া যায় না। নির্ধারিত যোগ্যতা, অনুমোদন, গবেষণার প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা অনুদানদাতার অনুমোদন এবং অভিবাসন বিধিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।

এদিকে যুক্তরাজ্যে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নামে যে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটিও অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন অভিবাসন রুটে স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট যোগ্যতার গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের জন্য তিন বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ এখনো বহাল রয়েছে।

সুতরাং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষক, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ও স্থায়ীভাবে বসবাসের অন্যতম আকর্ষণীয় পথ। তবে তিন বছরে স্থায়ী বসবাসের সুযোগটি সবার জন্য নয়; আবেদনকারীর যোগ্যতা ও অনুমোদনের ধরন অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

সূত্রঃ যুক্তরাজ্য সরকারের Home Office ও GOV.UK-এর Immigration Rules—Appendix Global Talent;

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ পাসপোর্টের আবেদন খরচ বৃদ্ধি করল যুক্তরাজ্য সরকার

ফ্রান্সের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তৎপর যুক্তরাজ্য

ইরানে হামলা করা থেকে ট্রাম্পকে সরে আসার আহ্বান স্টারমারের