13.3 C
London
October 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

চাকরিজীবীদের চেয়ে দ্বিগুণ আয় বেকারদেরঃ ব্রিটেনের ভাতা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

ব্রিটেনের ব্ল্যাকপুল শহরের একটি সড়কে কর্মজীবী বাসিন্দাদের মধ্যে সরকারি ভাতা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, কাজ না করা কিছু প্রতিবেশী সরকারি সহায়তা থেকে মাসে যে অর্থ পান, তা চাকরি করে উপার্জন করা মানুষের আয়ের দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে কাজ করার আর্থিক প্রণোদনা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্ল্যাকপুলের চেলটেনহ্যাম রোডের বাসিন্দারা এলাকাটিকে ‘বেনিফিটস স্ট্রিট’-এর বাস্তব সংস্করণ হিসেবে বর্ণনা করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শহরটির কিছু এলাকায় কর্মক্ষম বয়সী মানুষের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কর্মহীন অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ভাতা গ্রহণ করেন।

৩০ বছর বয়সী সামান্থা উইলকিনস এক সন্তানের মা। তিনি কাছের লিথাম সেন্ট অ্যানিস এলাকায় একটি হলিডে অ্যাপার্টমেন্টে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। মাসে তার আয় প্রায় এক হাজার পাউন্ড। কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য বাস পাস কিনতেই তাকে ৮২ পাউন্ড খরচ করতে হয়।

সংসারের বিল পরিশোধের পর মাস শেষে তার হাতে থাকে মাত্র ২০ পাউন্ড। অন্যদিকে, তার দাবি, কর্মহীন কয়েকজন প্রতিবেশী সরকারি সহায়তা থেকে মাসে প্রায় দুই হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেশীদের একজন কখনো কাজ করেননি।

সামান্থা বলেন, চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি আবার কাজে ফিরেছেন এবং নিজের চাকরি নিয়ে গর্বিত। তবে কাজের পাশাপাশি সংসারের নানা দায়িত্ব সামলানোর পর কখনো কখনো তার মনে প্রশ্ন জাগে, এত কষ্ট করে কাজ করা আদৌ সার্থক কি না।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি দেশে বাস করছি, যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই চাকরি করেও যথেষ্ট আয় হয় না।” দীর্ঘদিন ধরে এক বেতনের পর আরেক বেতন পর্যন্ত হিসাব করে চলতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সামান্থার মা ৬২ বছর বয়সী ট্রেসি জার্ভিস ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর সাবেক সদস্য। গুরুতর বাতের কারণে তাকে আগেভাগে অবসর নিতে হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার মাসিক সামরিক পেনশনের পরিমাণ ৩০০ পাউন্ডেরও কম। দীর্ঘদিন কাজ করার পরও পরিবারের সম্মিলিত আয়ের কারণে তিনি ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, সরকার যেন কাজ করতে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদেরই বেশি সহায়তা দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের সামাজিক ন্যায়বিচারবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিসের (সিএসজে) এক প্রতিবেদনে কর্ম ও পেনশন বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্ল্যাকপুলের ভাতানির্ভর এলাকাগুলোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শহরটির ১০টি এলাকায় কর্মক্ষম বয়সী মানুষের ৭৬ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কর্মহীন অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত ভাতার ওপর নির্ভরশীল। পুরো ব্ল্যাকপুলে এমন ৭৭টি এলাকা রয়েছে, যেখানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেন।

এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। চেলটেনহ্যাম রোডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কর্নার হাউসের ৫৫ বছর বয়সী পরিচালিকা জুলি থমাসের দাবি, মহামারির পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাওয়ায় কর্মী নিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি এখন অনেকটা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদেশে অবসর জীবন কাটানোর পরিকল্পনাও করছেন তিনি।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এমকে

আরো পড়ুন

দূরবর্তী অঞ্চলের জন্য ড্রোন বহর ব্যবহার করবে রয়্যাল মেইল

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটেনে আশ্রয় আবেদন বাতিল বাংলাদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে চুক্তি

পূর্ব লন্ডনে করোনা ভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকার ভেরিয়েন্ট