TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

চিকেন শপ-নেইল বারেও স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসাঃ ব্রিটেনের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় প্রশ্ন

ব্রিটেনের স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা ও সম্ভাব্য অপব্যবহারের চিত্র সামনে এসেছে। নতুন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা স্পনসর করার অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল চিকেন শপ, ভ্যাপের দোকান, গাড়ি ধোয়ার ব্যবসা, চুল ও সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং নেইল বার।

তথ্যগুলো ফ্রিডম অব ইনফরমেশন বা তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে রিফর্ম ইউকে। পরে এসব তথ্য দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা স্পনসর করার ক্ষমতা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ শতাংশ এমন শিল্প খাতে ছিল, যেগুলো সাধারণত কম বেতন ও কম দক্ষতার কাজের সঙ্গে যুক্ত।

২০২০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটেনের পয়েন্টভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করে বলেছিলেন, এর মাধ্যমে উচ্চ বেতন, উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ উৎপাদনশীলতার অর্থনীতি গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে অদক্ষ কর্মী আসার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসার আওতায় আসা কর্মীদের বড় একটি অংশ বিজ্ঞানী বা উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবী না হয়ে খুচরা ব্যবসা, আতিথেয়তা ও অন্যান্য তুলনামূলক কম বেতনের খাতে কাজ করেছেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদেশি কর্মীদের স্পনসর করতে আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিল খুচরা ও আতিথেয়তা খাতের।

এই সময়ে শুধু খুচরা ও আতিথেয়তা খাতেই ২৯ হাজার ৪৮৬টি প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের জন্য স্পনসরশিপ সার্টিফিকেট দিয়েছে। এই সার্টিফিকেট স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসার আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটি পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট কর্মীর স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়।

তবে তথ্যের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো ব্যবসাগুলোর ধরন। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৮৮টি চিকেন শপ স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসার জন্য কর্মী স্পনসর করার ক্ষমতা পেয়েছে। পাশাপাশি ৬২টি ভ্যাপের দোকান এবং ২০টি গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠানও এই অনুমোদন পেয়েছে।

এ ছাড়া অন্তত ৬৪৩টি চুল ও সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী স্পনসর করার অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ছিল নেইল বার। এমনকি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও এই ব্যবস্থার আওতায় বিদেশি কর্মী স্পনসর করেছে। তথ্য অনুযায়ী, গির্জা, মসজিদ ও সিনাগগসহ ৩৪০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় ছিল।

এর বিপরীতে অর্থ ও বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাত্র ৩ দশমিক ১ শতাংশ ছিল। ফলে স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা উচ্চ দক্ষতার কর্মীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অক্সফোর্ডের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির বেন ব্রিন্ডল বলেন, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান হয়তো নিয়মের মূল উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে থাকতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইন ভাঙা হয়েছে এমনটা বলা যায় না। তার মতে, তাত্ত্বিকভাবে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারবে, সে বিষয়ে খুব বেশি নিষেধাজ্ঞা ছিল না।

বার্মিংহামের স্ট্র্যাটফোর্ড রোড এই বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। লন্ডনের বাইরে খুচরা ব্যবসা, আতিথেয়তা ও নির্মাণ খাতে স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা স্পনসর করার অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব এই এলাকায় বলে দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

স্পার্কহিল এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সড়কে পোশাকের দোকান, গয়নার দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি, খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। এর অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসার জন্য স্পনসর করার অনুমতি পেয়েছে।

স্পার্কহিল এলাকায় ১৯৫০-এর দশক থেকেই বড় পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের বসবাস। স্থানীয় এক মোবাইল ফোনের দোকানের মালিকের দাবি, রেস্তোরাঁর মতো কঠিন কাজে ব্রিটিশ কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করানো কঠিন। তার মতে, বিদেশি কর্মীরা দীর্ঘ সময় কাজ করতে আগ্রহী হওয়ায় অনেক ব্যবসা তাদের নিয়োগে আগ্রহী।

স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসার মাধ্যমে বিদেশি কর্মী আনতে নিয়োগকর্তাদের অবশ্য বেশ কিছু খরচ বহন করতে হয়। ২০২১ সালে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর সময় সাধারণভাবে স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বেতন ছিল বছরে ২৫ হাজার ৬০০ পাউন্ড।

কর্মী সংকটে থাকা কিছু খাতে এই বেতনসীমা আরও কম ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ২০ হাজার ৪৮০ পাউন্ড পর্যন্ত নেমে যেত। বর্তমানে সাধারণ বেতনসীমা বাড়িয়ে ৪১ হাজার ৭০০ পাউন্ড করা হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।

ছোট প্রতিষ্ঠানকে স্পনসর লাইসেন্সের জন্য এককালীন ৬১১ পাউন্ড দিতে হয়। প্রতিটি স্পনসরশিপ সার্টিফিকেটের জন্য দিতে হয় ৫২৫ পাউন্ড। এর পাশাপাশি কর্মীপ্রতি বছরে ৪৮০ পাউন্ড ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ দিতে হয়। নিয়োগ-সংক্রান্ত অন্যান্য খরচও রয়েছে।

তারপরও বহু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী স্পনসর করেছে। এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে, এসব প্রতিষ্ঠান প্রকৃত দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণের জন্য স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবহার করেছে, নাকি তুলনামূলক কম খরচে শ্রমিক পাওয়ার সুযোগ হিসেবে এই ব্যবস্থা কাজে লাগিয়েছে।

স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থাকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বিদেশি কর্মীদের শোষণ। বার্মিংহামের স্ট্র্যাটফোর্ড রোডের ব্যবসায়ী কারান থাসান দাবি করেন, কিছু নিয়োগকর্তা কর্মীর ব্যাংক হিসাবে প্রয়োজনীয় বেতন দেখিয়ে পরে সেই অর্থের একটি বড় অংশ ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো কর্মীর ব্যাংক হিসাবে মাসে ৩ হাজার পাউন্ড বেতন দেখানো হতে পারে। পরে তাকে ২ হাজার পাউন্ড নিয়োগকর্তাকে ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। ফলে কর্মীর হাতে প্রকৃতপক্ষে থাকে মাত্র ১ হাজার পাউন্ড।

ওয়ার্ক রাইটস সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ডোরা-অলিভিয়া ভিকল বলেন, স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থা চালুর পর থেকে তারা এ ধরনের বহু ঘটনা দেখেছেন। তার মতে, এই ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তার হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা থাকায় সেটির অপব্যবহার করা সহজ।

ব্রিটেনে স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসায় থাকা কর্মীর বৈধ অভিবাসন অবস্থান নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকায় চাকরি হারানো বা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা অনেক সময় কর্মীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভিকল জানান, একটি পরিবার উচ্চ দক্ষতার চাকরি করার আশায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ব্রিটেনে এসেছিল। কিন্তু পরে ওই ব্যক্তিকে ওয়েটার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতে বাধ্য করা হয়। পরিবারটি নিয়োগকর্তার দেওয়া বাসস্থানে থাকায় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত আধুনিক দাসত্বের অভিযোগে একটি রেফারেল তাদের সহায়তা করে।

এ ধরনের আরও ঘটনায় কেউ ঘণ্টায় মাত্র ৪ পাউন্ড আয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কোনো কোনো পরিচর্যা কর্মীকে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বিরতি ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

ভিকল এমন একজন পরিচর্যা কর্মীর কথা উল্লেখ করেন, যিনি ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতেন, অথচ খুব সামান্য বেতন পেতেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অসহায় মানুষের পরিচর্যার জন্য অর্থও পেত।

কিছু ক্ষেত্রে নিজ দেশে ভালো পেশা থাকা ব্যক্তিদের ব্রিটেনে জীবন পরিবর্তনকারী চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাজার হাজার পাউন্ড নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে তারা প্রতিশ্রুত চাকরি না পেয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

ভিকলের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান হোম অফিসের স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা স্পনসর তালিকায় থাকলে বিদেশি কর্মীদের কাছে সেটি বৈধ ও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে কিছু কর্মী ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

তিনি জানান, এমন মানুষও রয়েছেন যারা সর্বস্বান্ত হয়ে গির্জার মেঝেতে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ গুরুতর মানসিক সংকটেও পড়েছেন।

একটি পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে ভিকল বলেন, প্রতিষ্ঠানটি যখন স্পনসর লাইসেন্স পেয়েছিল, তখন সেখানে মাত্র ১২ জন কর্মী ছিল। অথচ এক বছরের মধ্যে হোম অফিস ওই প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ২৩৪টি স্পনসরশিপ সার্টিফিকেট দিয়েছিল।

ব্রেক্সিটের পর হোম অফিস এখন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক স্পনসর লাইসেন্স বাতিল করেছে। এতে অনিয়মকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, অনিয়মকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান শাস্তির ব্যবস্থা যথেষ্ট কঠোর নয়। অ্যান্টি-ট্রাফিকিং অ্যান্ড লেবার এক্সপ্লয়টেশন ইউনিটের আইনজীবী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা জামিলা ডানকান-বোসু বলেন, স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থায় কর্মী শোষণের সুযোগ থাকলে তা শুধু বিদেশি কর্মীদের নয়, ব্রিটিশ কর্মীদেরও ক্ষতি করতে পারে।

তার মতে, একজন কর্মীকে নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে বেঁধে রাখলে শোষণের ঝুঁকি তৈরি হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি শোষিত শ্রম ব্যবহার করে কম খরচে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তাহলে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একই ধরনের পথে যাওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।

কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যেও এখন ‘বরিসওয়েভ’ নিয়ে আত্মসমালোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক টোরি এমপি বলেন, অভিবাসনের ক্ষেত্রে সরকার অতিরিক্ত শিথিল ছিল এবং অনেক বিদেশি কর্মী কম বেতনের চাকরিতে প্রবেশ করায় ব্রিটিশ কর্মীদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সাবেক অভিবাসনমন্ত্রী রবার্ট জেনরিক ‘বরিসওয়েভ’-কে এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারি নীতিগত ব্যর্থতাগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, কাবাবের দোকান, নেইল বারসহ কিছু প্রতিষ্ঠান সংগঠিত অভিবাসন জালিয়াতির আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং হোম অফিসের নজরদারি ছিল অপর্যাপ্ত।

এদিকে ব্রিটেনে স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসায় আসা কর্মীর সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্য সরকারের অনুমোদিত কর্মী ভিসার সংখ্যা ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬২৭-এ পৌঁছেছিল। জুন পর্যন্ত এক বছরে সেই সংখ্যা কমে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৪১ হয়েছে।

একই সময়ে ব্রিটেনের নিট অভিবাসনও কমেছে। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে নিট অভিবাসন রেকর্ড ৯ লাখ ৪৪ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে তা কমে ১ লাখ ৭১ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকার স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসার যোগ্যতার শর্তও কঠোর করেছে। ফলে কম দক্ষতার চাকরিতে বিদেশি কর্মী আনার সুযোগ ভবিষ্যতে আরও সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ব্রিটেনে থাকা কিছু অভিবাসীও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। বার্মিংহামের একটি ভিসা ও ট্রাভেল এজেন্সিতে কর্মরত এক নারীর দাবি, স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসাসহ বিভিন্ন ভিসায় ব্রিটেনে আসা কিছু মানুষের কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে এবং তাদের ভিসাও বাতিল হয়েছে। তাদের কেউ কেউ এখন অন্য দেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে ১০ বা ১৫ বছর করার আলোচনা নিয়েও কিছু অভিবাসীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে চিন্তা করছেন এবং ইউরোপের অন্য দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

তবে স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসায় আসা সব কর্মীকে একইভাবে দেখার সুযোগ নেই। বহু বিদেশি কর্মী বৈধভাবে ব্রিটেনে এসে নিয়ম মেনে চাকরি করেছেন, কর দিয়েছেন এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য অর্থও প্রদান করেছেন।

তাই বর্তমান বিতর্কের মূল প্রশ্ন অভিবাসীরা বৈধভাবে ব্রিটেনে আসবেন কি না—শুধু সেটি নয়। বরং স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত দক্ষ কর্মী আনা হচ্ছে কি না, নিয়োগকর্তারা নিয়ম মেনে বেতন দিচ্ছেন কি না এবং বিদেশি কর্মীদের শোষণ ও প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে হোম অফিস যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরিস জনসনের সময় চালু হওয়া অভিবাসন ব্যবস্থার উত্তরাধিকার হিসেবে ‘বরিসওয়েভ’ এখন ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। আর চিকেন শপ, নেইল বার, ভ্যাপের দোকান ও গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যবসার স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা স্পনসর হওয়ার তথ্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশে সহিংসতা বন্ধ করতে বিশ্বকে আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস

নিউজ ডেস্ক

‘৫৮ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভ্রান্ত করে স্টুডেন্ট লোন’, ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

আই ব্যবহার করে বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের এক স্টার্টআপ কোম্পানি