ব্রিটেনের সড়কে চলাচলকারী শত শত বৈদ্যুতিক বাস দূর থেকে বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা চীনের হাতে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। তদন্তে উঠে এসেছে, এসব বাস ইন্টারনেট–সংযুক্ত হওয়ায় তাত্ত্বিকভাবে বাইরের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় (DfT) ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (NCSC)–এর যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ইউটং নির্মিত বাসগুলো অনবোর্ড সিম কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে যুক্ত থাকে। মূলত সফটওয়্যার আপডেটের জন্য এই সংযোগ ব্যবহার হলেও, এটি নিরাপত্তা ঝুঁকির দরজাও খুলে দেয়। ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা GCHQ–এর অধীন NCSC জানিয়েছে, প্রযুক্তিগতভাবে চীন থেকে এসব বাস দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব।
নরওয়েতে একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশের পর গত নভেম্বরে ব্রিটিশ তদন্ত শুরু হয়। সেখানে অভিযোগ ওঠে, ইউটংয়ের বৈদ্যুতিক বাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চাইলে ব্যাটারি বা সিস্টেমে দূর থেকে প্রবেশ করে যানবাহন অচল করে দিতে পারে। যদিও ব্রিটিশ তদন্তকারীরা এখনো পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাননি।
হোয়াইটহল সূত্র জানিয়েছে, সরাসরি নাশকতার প্রমাণ না থাকায় সরকার আপাতত এসব বাস নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে না। মন্ত্রীরা মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন হলো—বাসগুলো হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বর্তমানে গুরুতর নয়।
তবু এই তথ্য প্রকাশের পর ব্রিটিশ অবকাঠামোর ওপর চীনা প্রযুক্তির নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে লেবার পার্টির কয়েকজন এমপি শিল্প, রেল, পানি ও বিদ্যুৎ খাত থেকে চীনের প্রভাব কমানোর দাবি তুলেছিলেন।
এর বিপরীতে ডাউনিং স্ট্রিট চীন থেকে আরও বিনিয়োগ টানতে আগ্রহী। সরকারের মতে, এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও পরিবহন প্রকল্পে বেসরকারি অর্থায়ন নিশ্চিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে স্যার কিয়ার স্টারমারের চীন সফর এবং লন্ডনে নতুন চীনা দূতাবাস অনুমোদনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
কার্বন নিঃসরণ কমাতে লেবার সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্রিটেনের রাস্তায় আরও ইউটং বৈদ্যুতিক বাস নামানো হয়েছে। নটিংহাম সিটি কাউন্সিল ইতোমধ্যে তাদের সব সিঙ্গেল-ডেকার বাস ইউটং মডেলে রূপান্তর করেছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই ডাবল-ডেকার বহর বদলের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রিটেনজুড়ে প্রায় ৭০০টি ইউটং বাস চালু রয়েছে। স্টেজকোচ ও ফার্স্ট বাসের মতো বড় পরিবহন সংস্থাগুলো এসব বাস ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে কেন্টে ইউটং বাস সরবরাহকারী একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে অনুমোদিত সরবরাহকারীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নরওয়ের গণপরিবহন সংস্থা রুটার ইতোমধ্যে এসব বাসে অতিরিক্ত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরোপ করেছে। ব্রিটেনে অবশ্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে NCSC জানিয়েছে, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশে ইউটং বাস নিয়ে চলমান তদন্ত তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
ইউটং বাস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের যানবাহন দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট–সংযুক্ত সফটওয়্যার ইউনিটটি ব্রেক বা স্টিয়ারিংসহ মূল চালনা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নয়। পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি বোঝা ও তা কমাতে সরকার পরিবহন খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

