24.5 C
London
July 10, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরঃ বাংলাদেশের জন্য ‘গোল্ডেন গেট’ হতে পারে

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। নতুন সরকার সমমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী লাভবান হবে, তা প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে অনেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর (২২-২৫ জুন) এ ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি তিস্তা প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ, অন্যটি কুনমিং-মায়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণ।

চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মায়ানমারের মান্দালয় হয়ে একটি শাখা ইয়াঙ্গুন এবং অন্য শাখা রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত যাবে। এরপর সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সরাসরি চীন এবং আসিয়ানভুক্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে।

এটি নতুন প্রস্তাব নয়। ২০১৩ সালে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমার (বিসিআইএম) করিডোরের প্রস্তাব এসেছিল। ভারতের আপত্তির কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ভারতকে বাদ দিয়ে চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশ করিডোরের ধারণা এগিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে:
– চীনসহ আসিয়ান দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি সহজ ও সাশ্রয়ী হবে
– বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে
– পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ কমবে
– বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও বহুমুখী হবে

তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মায়ানমারে আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকারের মধ্যে সংঘাত, রাখাইন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা ইস্যু অন্যতম। কূটনৈতিক মহলের মতে, চীন যথাযথ উদ্যোগ নিলে এসব সমস্যা সমাধানযোগ্য। চীনের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি বলেছেন, এটি একটি মুক্ত প্রকল্প— যেকোনো দেশ চাইলে যোগ দিতে পারবে।

২০০১-২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘লুক ইস্ট’ নীতি গ্রহণ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগ নিয়েছিল। নতুন সরকার এই নীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে চীনের করিডোর প্রস্তাবকে কাজে লাগাতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে বিপুল বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। চীনের প্রস্তাবিত এই করিডোর বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা চালালে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ‘গোল্ডেন গেট’ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব

এম.কে

আরো পড়ুন

বহিরাগতদের জন্য বাড়তি পোশাক আনে আনসার সদস্যরাঃ আনসার মহাপরিচালক

বোয়িং ডিলের ছায়ায় বিমানের এমডির পতনঃ অপরাধ না পরিকল্পিত অপসারণ?

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ দেখলামঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য