ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম সংগঠনটির সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই বিদায়ের ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম ছাত্রশিবিরকে তার “আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন” হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ছাত্রজীবনের দীর্ঘ সময় সংগঠনটির সঙ্গে থেকে যে শিক্ষা, আদর্শ, অভিজ্ঞতা ও সহযোদ্ধাদের ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তার জীবনের মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে।
এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, এটি সংগঠনের নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ। শিক্ষাজীবন ও সাংগঠনিক দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাদিক কায়েমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় আরও নয়জন কেন্দ্রীয় সম্পাদককেও বিদায় জানানো হয়েছে।
বিদায় নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিবসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল।
সাদিক কায়েম গত বছর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ৩৮তম ভিপি নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষা ও ক্যাম্পাস-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিনি এখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মূল রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রশিবির থেকে সাদিক কায়েমের আনুষ্ঠানিক বিদায় সংগঠনটির স্বাভাবিক সাংগঠনিক ধারাবাহিকতার অংশ হলেও, জাতীয় রাজনীতিতে তার সম্ভাব্য নতুন ভূমিকা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জামায়াতের রাজনীতিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

