21 C
London
July 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, গৃহহীনতা দূরের প্রতিশ্রুতি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া প্রথম ভাষণে দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি এমন একটি মুহূর্ত, যখন ব্রিটেন আবার নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বাস করতে শুরু করবে। একই সঙ্গে তিনি আগামী ১০ বছরের জন্য একটি জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ, গৃহহীনতা দূরীকরণ এবং অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, গত এক দশকে তিনি ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করেছেন এবং ২০১৬ সালের পর তিনি সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং এখন রাজনীতিবিদদের আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করার সময় এসেছে।

তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়েছে। সেই বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণকে হতাশ করা হয়েছে এবং এখন সেই আস্থা পুনরুদ্ধার করাই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করবে তার সরকার।

বার্নহ্যাম বলেন, ১৯৮০-এর দশকের অর্থনৈতিক নীতির ফলে ব্রিটেনের অনেক শিল্পাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু অঞ্চল এখনও সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তোলার ঘোষণা দেন, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনের হাতে আরও বেশি করে তুলে দেওয়া হবে এবং প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়নে স্থানীয় জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।

অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের ক্রয়নীতির মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করা হবে এবং ব্রিটেনে পুনরায় শিল্পায়নের গতি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবাগুলোকে আরও সাশ্রয়ী করতে জনস্বার্থভিত্তিক নীতিমালা গ্রহণ করা হবে।

জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জনগণকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে। তিনি জানান, এসব উদ্যোগের অর্থায়নের উৎসও সরকার স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং আরও বেশি কাউন্সিল হাউস নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন বার্নহ্যাম। তার ভাষায়, মানুষের সমস্যার সমাধানে আগাম বিনিয়োগ করাই একটি কার্যকর ও টেকসই রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।

ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল গৃহহীনতা দূর করার অঙ্গীকার। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম সরকারি নির্দেশ হবে যুক্তরাজ্যে খোলা আকাশের নিচে বসবাস বা ‘রাফ স্লিপিং’ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। মানুষের কল্যাণকে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের মূল দায়িত্ব হবে মানুষের জীবনমান উন্নত করা।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বার্নহ্যাম বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে সহযোগিতা, ইতিবাচকতা এবং অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তার মতে, ব্রিটেনের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে হলে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে নেওয়াই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণকে তার সরকারের নীতিগত রূপরেখার সূচনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, কর্মসংস্থান, স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বিষয়ে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী দিনগুলোতে কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে এখন নজর থাকবে দেশটির রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ জনগণের।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

বরিস জনসন ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে বিভ্রান্ত করেছেনঃ প্রতিবেদন

ব্রিটিশ মন্ত্রী ও সাংবাদিকসহ ৫৪ জনের উপর রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা

২০২৩ সালে ল্যান্ডলর্ডদের যা জানা প্রয়োজন

নিউজ ডেস্ক