29.3 C
London
May 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

জ্বালানি বিল আরও বাড়ছে ব্রিটেনেঃ অতিরিক্ত ৭৫ পাউন্ড গুনতে হতে পারে পরিবারগুলোকে

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মধ্যেই আবারও বাড়তে যাচ্ছে গৃহস্থালি জ্বালানি বিল। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইডিএফ এনার্জি সতর্ক করেছে, বকেয়া ঋণের চাপ সামাল দিতে আগামী বছর সাধারণ গ্রাহকদের বছরে অতিরিক্ত অন্তত ৭৫ পাউন্ড পর্যন্ত গুনতে হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যারা জ্বালানি বিল পরিশোধ এড়িয়ে যাচ্ছে বা বকেয়া রেখে দিচ্ছে, তাদের ঋণের বোঝা শেষ পর্যন্ত নিয়মিত বিল পরিশোধকারী গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। বর্তমানে এই খাতে জমে থাকা ঋণের পরিমাণ “নিয়ন্ত্রণের বাইরে” চলে গেছে এবং আগামী বছর তা ৭০০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইডিএফ।

প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহককে সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি ঋণ মোকাবিলায় যে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, তা ইতোমধ্যে একটি গড় পরিবারের বার্ষিক বিলে প্রায় ৬০ পাউন্ড যোগ করেছে। ঋণের পরিমাণ আরও বাড়লে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ পাউন্ড পর্যন্ত নতুন করে যুক্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি এমন এক সময় তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম নতুন মূল্যসীমা ঘোষণা করতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে গড় পারিবারিক জ্বালানি বিল আরও প্রায় ২০০ পাউন্ড বেড়ে ১ হাজার ৮৫০ পাউন্ডে পৌঁছাবে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন মূল্যবৃদ্ধি আরও বেশি পরিবারকে ঋণের মধ্যে ঠেলে দেবে। যারা আগে থেকেই বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ইডিএফ অভিযোগ করেছে, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকার দুর্বল নিয়ন্ত্রক কাঠামো বজায় রেখেছে, যার ফলে মানুষ সহজে ঋণে জড়িয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই যারা বিল পরিশোধে সক্ষম, তারাও নিয়মের ফাঁক গলে অর্থ না দিয়েই পার পাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, “বর্তমান নিয়মকানুন সমস্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে ঋণে জড়িয়ে পড়া সহজ হয়েছে, কিন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে গেছে।”

এদিকে অফজেমের প্রধান নির্বাহী টিম জারভিস জ্বালানি সংকটের সময় জমে থাকা প্রায় ৪০ কোটি পাউন্ড ঋণ মওকুফের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই উদ্যোগ সংকটের তুলনায় খুবই সীমিত।

টিম জারভিস সম্প্রতি বলেন, “জ্বালানি কোনোভাবেই বিনামূল্যের বা স্বল্পমূল্যের ঋণের উৎস হয়ে উঠতে পারে না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত ও সঠিকভাবে বিল দিতে হবে, একই সঙ্গে সামর্থ্য থাকলে গ্রাহকদেরও বিল পরিশোধ করতে হবে।”

তবে দাতব্য সংস্থা ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাকশন বলেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিল দিচ্ছে না—এমনটি নয়; বরং ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও কম আয়ের কারণে তারা বাধ্য হয়ে ঋণে পড়ছে।

সংগঠনটির মতে, বহু পরিবার ভাড়া, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটানোর পর আর জ্বালানি বিল দেওয়ার মতো অর্থ হাতে পাচ্ছে না। ফলে তারা চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিল পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না।

একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে সিটিজেনস অ্যাডভাইস। সংগঠনটি বলেছে, যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ব্যয় সংকট এখন আর সাময়িক সমস্যা নয়; এটি লাখো পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে জ্বালানি শিল্প সংগঠন এনার্জি ইউকে জানিয়েছে, বর্তমান নিয়মের কারণে মানুষ খুব সহজে বকেয়া ঋণে জড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কার্যকর পথ সীমিত।

এদিকে জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর আশঙ্কা, মূল্যসীমা বৃদ্ধির নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। কারণ খাদ্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় যুক্ত হলে বহু পরিবার আরও গভীর আর্থিক সংকটে পড়বে।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি ব্যবস্থায় জমে থাকা ঋণ কমাতে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে অফজেমের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী শীতে লাখো পরিবার আরও বড় আর্থিক চাপে পড়তে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রত্যাবাসনের যোগ্য হয়েও যুক্তরাজ্যে ১৯,৪৯১ বিদেশি অপরাধীঃ আট বছরে প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি

রানি হচ্ছেন ক্যামিলা

নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া অভিবাসীদের সংখ্যায় ভারতীয়রা দ্বিতীয়