ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে এলেও এই কূটনৈতিক তৎপরতা ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণী মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে তেল আবিবে বাড়ছে সংশয় ও উদ্বেগ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস করে যে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো আলোচনায় তাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। তবে সাম্প্রতিক প্রস্তাবের খুঁটিনাটি সামনে আসার পর সেই আস্থার জায়গায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ট্রাম্প দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। কিন্তু সেই লক্ষ্যে তিনি কতটা ছাড় দিতে পারেন, সেটিই এখন তাদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ।
ইসরায়েলের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। আর সে ক্ষেত্রে আগে এক মাসের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম কোথায় যাবে; তা কি তৃতীয় কোনও দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে, নাকি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাখা হবে; এই বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। একইসঙ্গে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের ধোঁয়াশা।
ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কোনো চুক্তি হলেও তা ইরানকে ভবিষ্যতে আবার পারমাণবিক কার্যক্রম বা ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের সুযোগ করে দিতে পারে কিনা, সে প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর এখনো মেলেনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেল আবিব মনে করছে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে ইরানের ওপর আরও কিছু সামরিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ থাকতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবনায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বন্ধ ও ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তার মতো কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে।
বিনিময়ে তেহরানকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ভবিষ্যতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মতো প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করেনি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা মার্কিন প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতির দিকে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

