TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদ্যুৎ-খনিজ রপ্তানি বন্ধের হুমকি কানাডার

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কানাডীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এক সাক্ষাৎকারে ফোর্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হলে কানাডার হাতে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সব পথ খোলা থাকবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি বন্ধ করাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডীয়দের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করছেন।

ফোর্ড আরও বলেন, অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

কঠোর ভাষায় ফোর্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কানাডা পিছপা হবে না। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি দেখে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ‘বমি করতেন’। মুক্তবাণিজ্যের পক্ষে থাকা রিগ্যানের সঙ্গে ট্রাম্পের বর্তমান বাণিজ্যনীতির তীব্র পার্থক্য তুলে ধরতেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কানাডায় তৈরি গাড়ি, ট্রাক, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও স্টিলের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও চাপের মুখে পড়েছে।

বর্তমানে কানাডার গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক রয়েছে। অন্যদিকে স্টিলজাত পণ্যের ক্ষেত্রে পণ্যের ধরন অনুযায়ী ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় আগামী বছর থেকে কানাডীয় অটোমোবাইল খাত আরও বড় চাপের মুখে পড়তে পারে।

শুধু নতুন শুল্কের হুমকিই নয়, এরই মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সমপরিমাণ মার্কিন পণ্যের ওপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

কার্নি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনা থেকে গ্রহণযোগ্য কোনো সমঝোতা বেরিয়ে আসেনি। কানাডা এমন কোনো চুক্তি মেনে নেবে না, যা দেশটির অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এদিকে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ফোর্ড বলেছেন, কানাডীয়রা অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সম্পদের সরবরাহ সীমিত করা হতে পারে।

এর আগে অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান, মিনেসোটা ও নিউইয়র্কে রপ্তানি করা বিদ্যুতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করেছিল। পরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে ওই ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে হুমকি বাস্তবে কার্যকর হলে এর প্রভাব শুধু কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তর আমেরিকার আন্তঃনির্ভরশীল শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অটোমোবাইল শিল্পে দুই দেশের উৎপাদনব্যবস্থা গভীরভাবে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যযুদ্ধ উভয় দেশের শিল্প ও ভোক্তাদের জন্য বাড়তি খরচ তৈরি করতে পারে।

ফলে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণা এবং কানাডার পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের বহু বছরের বাণিজ্যিক সহযোগিতা এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে বিদ্যুৎ, খনিজ, গাড়ি ও স্টিলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বাণিজ্য সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

হরমুজ অভিযানে যাওয়ার পথে বানরের আক্রমণে আহত মার্কিন নাবিক

ইসরায়েলগামী অস্ত্র আটকাল স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন উত্তেজনা

চীন-পাকিস্তান সিল্ক রোডে যুক্ত হতে চায় ইরানঃ পেজেশকিয়ান