যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায়। এতে দাবি করা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারণী কাঠামো ধীরে ধীরে দুর্বল করা হচ্ছে, যার প্রভাব সরকার, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।
ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সেবা ব্যবস্থা—যেমন নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, জনস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিক অধিকার—সবই এক ধরনের চাপ ও সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়।
একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, যে কাঠামো জনগণের সেবার জন্য কাজ করে, সেটি দুর্বল করা হচ্ছে; অন্যদিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা ও সামরিক খাতে ব্যয়ের বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের কাটছাঁটের কারণে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ক্ষুধা ও রোগবালাইয়ের মাধ্যমে বহু দেশে পড়ছে।
পরিবেশ নীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বন বিভাগ, জাতীয় উদ্যান এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর বাজেট কমানো এবং গবেষণা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়াকে ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য ও সার সংকটের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তার কিছু সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং নীতিগত অস্থিরতা ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে ব্যাহত করছে।
একই সঙ্গে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্ককে ঘিরেও কিছু বিতর্কিত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি ধীরে ধীরে একটি বৃহৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করছে। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সংকট মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতার ফল, যেখানে নির্বাচনী ব্যবস্থা, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার অসম বণ্টন বড় ভূমিকা রাখছে বলে সমালোচকরা মনে করেন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
লেখকঃ রেবেকা সলনিট

