TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ডিসেম্বরের আগেই রাস্তায় থাকা সবার জন্য আশ্রয়ঃ ৪৪২ মিলিয়ন পাউন্ডের মহাপরিকল্পনা বার্নহামের

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ঘোষণা দিয়েছেন, এ বছরের বড়দিনের আগেই ইংল্যান্ডে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো প্রত্যেক মানুষের জন্য অন্তত একটি নিরাপদ শয্যার প্রস্তাব নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় পর্যায়ে অভিযান শুরু করছে। ৪৪২ মিলিয়ন পাউন্ডের এই কর্মসূচিকে তিনি নিজের ‘নৈতিক মিশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় যেসব এলাকায় গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বেশি, সেখানে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। জরুরি আবাসনের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, মাদকাসক্তি নিরাময় এবং পুনর্বাসন সহায়তাও দেওয়া হবে, যাতে মানুষ শুধু শীত কাটিয়ে নয়, স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দরজার সামনে বা রেলস্টেশনের বাইরে কাউকে রাত কাটাতে হওয়া উচিত নয়। আমরা করোনাকালে মানুষকে ঘরে আনতে পেরেছিলাম, এবারও পারব।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গৃহহীনতা দূর করাই ছিল কর্মকর্তাদের প্রতি দেওয়া তার প্রথম নির্দেশগুলোর একটি।

সরকার জানিয়েছে, আগেই ঘোষিত ৩৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের সঙ্গে নতুন করে আরও ১০২ মিলিয়ন পাউন্ড যোগ করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত অর্থ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, মাদকাসক্তি নিরাময় এবং স্থানীয় সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যয় হবে। এর মধ্যে ৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড সরাসরি দাতব্য সংস্থা ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

শরৎকালে প্রথমবারের মতো গৃহহীনতা নিয়ে একটি জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করবে সরকার। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় সরকার ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের একত্র করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের রূপরেখা তৈরি করা হবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শরৎকালে ইংল্যান্ডে এক রাতে রাস্তায় ঘুমানো মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৯৩ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি এবং ২০১০ সালের তুলনায় ১৭১ শতাংশ বৃদ্ধি। ওই রাতে রাস্তায় থাকা মানুষের ৪৩ শতাংশই লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন।

হাউজিং সচিব অ্যাঞ্জেলা রায়নার বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু শীতের সময় মানুষকে আশ্রয়ে নেওয়া নয়; বরং তাদের স্থায়ী বাসস্থান, কর্মসংস্থান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে গৃহহীনতা থেকে বের করে আনা।

গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা শেল্টার এই উদ্যোগকে “গেম-চেঞ্জিং” বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির মতে, এক হাজারের বেশি স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, অস্থায়ী আবাসনে থাকা প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার শিশুর জন্যও সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে, বিগ ইস্যু-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা লর্ড জন বার্ড বলেন, কোভিড মহামারির সময় ‘এভরিওয়ান ইন’ কর্মসূচি দেখিয়ে দিয়েছিল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে রাস্তায় থাকা মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু কয়েক সপ্তাহের জন্য আশ্রয় দিলেই হবে না; মানসিক স্বাস্থ্য, নির্যাতন, আসক্তি ও অন্যান্য মূল সমস্যার সমাধানেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

যদিও কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, সবাই সহায়তা গ্রহণ করবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই এবং বড়দিনের মধ্যে গৃহহীনতার হার কতটা কমবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যাগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। তবুও সরকারের আশা, এই শীতেই ইংল্যান্ডজুড়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

সোনালী ব্যাংকের যুক্তরাজ্য সাবসিডিয়ারির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সাবেক সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বেগ

আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ‘ফকল্যান্ড’ বার্তায় যুক্তরাজ্যে নতুন বিতর্ক

‘বেআইনি হত্যাযজ্ঞে’ সহায়তা নয় — মার্কিন মাদকবিরোধী অভিযানে থেকে সরে গেল যুক্তরাজ্য