যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ঘোষণা করার ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, তিনি খুব শিগগিরই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে “যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা” হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে, ফলে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে কোনো উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে আমির হাতামি বলেন, “এ ধরনের কথা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা বড় ভুল। এটি ইরান, আর এর এমন রক্ষক রয়েছে যারা তোমার পা ভেঙে দেবে।” তিনি আরও দাবি করেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের আর আগের মতো কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তেহরান কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।
গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। ওই সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফেরানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক হামলার পর শনিবার মাত্র কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজ ওই পথ অতিক্রম করেছে, আর রোববার প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে নৌচলাচল। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

