15.2 C
London
June 8, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ঢাকার ছাত্র থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিলিয়নিয়ারঃ ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে আলোচনায় রবিন খুদা

ঢাকায় জন্ম, বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, আর সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনীদের একজন হয়ে ওঠার অনন্য যাত্রা—বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচিত নাম। সম্প্রতি ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রবিন খুদা জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় তিন লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই অর্থ ব্যয় করা হবে দেশজুড়ে আধুনিক ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হয়। এয়ারট্রাঙ্ক জানিয়েছে, তারা ভারতজুড়ে প্রায় পাঁচ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার অবকাঠামো নির্মাণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন এ প্রকল্পে অর্থায়ন ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদান করছে।

রবিন খুদার জন্ম ঢাকায়। তার পারিবারিক শেকড় সিরাজগঞ্জ জেলার ছাতিয়ানতলী গ্রামে। বাবা এস এম ওয়াজেদ আলী সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। বাবার কর্মস্থল ঢাকায় হওয়ায় সেখানেই রবিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর গভার্নমেন্ট হাই স্কুল এবং এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজে পড়াশোনা করেন।

১৯৯৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান রবিন খুদা। সেখানে সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তার বাবা-মাও অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

পেশাজীবনের শুরুতে তিনি টেলিযোগাযোগ ও ক্লাউড প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। সিংটেল এবং ফুজিটসুর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। পরে পাইপ নেটওয়ার্ক এবং নেক্টডিসি প্রতিষ্ঠানে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে কাজ করে প্রযুক্তি অবকাঠামো খাতে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।

পরবর্তীতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এয়ারট্রাঙ্ক, যা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার অপারেটর হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে আধুনিক ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছে। বর্তমানে এয়ারট্রাঙ্ককে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল ডেটা সেন্টার কোম্পানিগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রযুক্তি খাতে অসামান্য সাফল্যের সুবাদে রবিন খুদা অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ৩৮তম অবস্থানে রয়েছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সূত্র জানিয়েছে।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নেও অবদান রাখছেন তিনি। সম্প্রতি সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন রবিন খুদা। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দুই দশক ধরে পরিচালিত একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণীদের এসটিইএম শিক্ষায় উৎসাহ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসেই নয়, বরং নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের ইতিহাসে কোনো একক ব্যক্তির দেওয়া সর্ববৃহৎ দাতব্য অনুদান।

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার এক শিক্ষার্থীর বৈশ্বিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের উদাহরণ নয়; এটি বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিরও প্রতীক। আর ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা রবিন খুদাকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সূত্রঃ ফোর্বস

এম.কে

আরো পড়ুন

আগামী ১১ দিন সারাদেশে ‘বিশেষ সতর্কতা’ জারি

বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ

গিটার নিয়ে গান গেয়ে অভিযানে পুলিশ, ৭ মাদকসেবী গ্রেফতার