23.2 C
London
August 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

দুই মসজিদে ফোন করে মুসলিমদের হত্যার হুমকিঃ ব্রিটেনে ২১ বছরের যুবকের কারাদণ্ড

ম্যানচেস্টারের দুটি মসজিদে ফোন করে মুসল্লি ও কর্মীদের হত্যার হুমকি দেওয়ার দায়ে ২১ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল লেভিকে ২৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আদালত। ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ওয়েকফিল্ডের বাসিন্দা লেভি হত্যার হুমকি দেওয়ার দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর বুধবার লিডস ক্রাউন কোর্টে সাজা পান। যুক্তরাজ্যের সরকারি কৌঁসুলি সংস্থা জানিয়েছে, মামলাটি ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর বিকেলে লেভি গোপন নম্বর ব্যবহার করে ম্যানচেস্টারের চিথাম হিল এলাকার আল-সুন্নাহ মসজিদে ফোন করেন। ফোনটি যিনি ধরেছিলেন, তাকে তিনি মসজিদে এসে হত্যা করার হুমকি দেন। পুলিশ ওই ফোনকলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়েকফিল্ডে লেভির বাড়িতে গিয়ে তার মোবাইল ফোন জব্দ করে।

গ্রেপ্তারের পর লেভি পুলিশকে জানান, সাম্প্রতিক সংবাদে দেখা একটি ঘটনার কারণে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং সেই কারণেই ফোনটি করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, দুই দিন আগে ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক এলাকায় একটি ইহুদি উপাসনালয়ে প্রাণঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি মসজিদে হুমকি দিয়েছিলেন।

তবে পরবর্তী তদন্তে আরও গুরুতর তথ্য সামনে আসে। একই দিনে লেভি ম্যানচেস্টারের ইকরা মসজিদেও ফোন করেছিলেন। সেখানে একজন কর্মীকে তিনি মুসলিম হিসেবে হত্যা করার হুমকি দেন। অর্থাৎ একই দিনে শহরের দুটি পৃথক মসজিদকে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তকারীরা লেভির মোবাইল ফোনে ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী ভাষায় লেখা একাধিক বার্তাও খুঁজে পান। এসব বার্তায় ঘৃণামূলক বক্তব্য ছিল বলে সরকারি কৌঁসুলি সংস্থা জানিয়েছে। মামলায় এসব বিষয়কে অপরাধের ধর্মীয় বিদ্বেষের মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

লেভির বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির একটি অভিযোগে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর লিডস জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দোষ স্বীকারের পর প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই লিডস ক্রাউন কোর্টে তিনি দ্বিতীয় অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত দুই অভিযোগে তাকে ২৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সরকারি কৌঁসুলি সংস্থার জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আমির সাজাদ বলেন, কাউকে তার কর্মস্থলে কাজ করার কারণে জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন অনুভূতি তৈরি করার অধিকার কারও নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, লেভি ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিদের ওপর তার কথার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করেননি।

আমির সাজাদ আরও বলেন, হত্যার হুমকি যে কোনো রূপেই ভুক্তভোগীর ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সামনে এসে অভিযোগ জানানোর জন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, হত্যার হুমকি ও ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণাজনিত অপরাধকে সরকারি কৌঁসুলি সংস্থা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও দৃঢ় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লেভির হুমকির ঘটনাটি ঘটে ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কনগ্রিগেশনের উপাসনালয়ে প্রাণঘাতী হামলার মাত্র দুই দিন পর। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ইয়ম কিপ্পুর উপলক্ষে আয়োজিত প্রার্থনার সময় ওই হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। হামলাকারী গাড়ি দিয়ে উপাসনালয়ের গেটের দিকে উঠে যাওয়ার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এবং পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

মামলাটি যুক্তরাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময়ে মুসলিম ও ইহুদি—উভয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও সামনে এনেছে। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় অন্য একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

আদালতের এই সাজা সেই প্রেক্ষাপটে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে।

সূত্রঃ আইটিভি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে জুড়িবোর্ডে নৃগোষ্ঠীর প্রভাব হ্রাস নিয়ে গবেষণা প্রকাশ

ব্রিটিশ নির্বাচনঃ উচ্ছ্বসিত প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া অভিবাসীরা

বৃটেনে নয় অন্য কোনো দেশে যেতে হবে আত্মহত্যা কর‍তে চাওয়া দুই শ্রীলঙ্কানকে