TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

দুর্ঘটনা কমাতে নতুন উদ্যোগ, বয়স্ক চালকদের নজরদারিতে আনছে ব্রিটেন

যুক্তরাজ্যে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী গাড়িচালকদের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর চোখের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন সরকারের নতুন সড়ক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ, যা বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

 

সরকারের পরিকল্পনায় আরও রয়েছে—ইংল্যান্ডে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর আইনি সীমা স্কটল্যান্ডের সমপর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং সিটবেল্ট না পরলে চালকদের বিরুদ্ধে পেনাল্টি পয়েন্ট দেওয়ার বিধান চালু করা। এসব প্রস্তাব গত আগস্টে প্রথম আলোচনায় আসে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গাড়িচালকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশের বয়স ছিল ৭০ বছর বা তার বেশি। এই তথ্য বয়স্ক চালকদের দৃষ্টিশক্তি ও স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ডিভিএলএ-এর নিয়ম অনুযায়ী, একজন চালককে ২০ মিটার দূর থেকে গাড়ির নাম্বার প্লেট পড়তে সক্ষম হতে হয়। তবে লাইসেন্স পাওয়ার পর কোনো বয়সের চালকের ক্ষেত্রেই নিয়মিত দক্ষতা বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। চালকদের নিজেদের অযোগ্যতা সম্পর্কে ডিভিএলএ-কে জানানোর দায়িত্ব দেওয়া হলেও এটি সম্পূর্ণ স্ব-ঘোষণাভিত্তিক ব্যবস্থা।

এএ মোটরিং সংস্থার সভাপতি এডমন্ড কিং বলেন, ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য চোখের পরীক্ষা এমনিতেই বিনামূল্যে এবং সাধারণত প্রতি দুই বছর অন্তর পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তার মতে, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা সবার জন্যই প্রয়োজনীয়।
ফার্নবোরোর বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী ময়রা হাচিংস বলেন, বয়স্ক চালকদের চোখ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা “নিশ্চিতভাবেই ভালো সিদ্ধান্ত”। তিনি জানান, বয়স বাড়ার পরও পরীক্ষা ছাড়া গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়া তাকে বিস্মিত করে।

ওয়্রেক্সহামের বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী রবার্ট ওয়েন্স মনে করেন, বিষয়টি শুধু বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, সব বয়সী চালকদের জন্যই নিয়মিত স্বাস্থ্য ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা প্রয়োজন, কারণ গাড়ি কার্যত “মারণাস্ত্রের মতো” হতে পারে।

যুক্তরাজ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য এনএইচএস-এর চোখের পরীক্ষা বিনামূল্যে। স্কটল্যান্ডে সব বয়সী নাগরিকের জন্য এই সুবিধা রয়েছে। অপটোমেট্রিস্টদের সংগঠনের নীতিনির্ধারণ পরিচালক ড. পিটার হ্যাম্পসন বলেন, দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় অনেক চালক বুঝতেই পারেন না যে তারা আর আইনি মানদণ্ড পূরণ করছেন না, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

স্থানীয় পরিবহনমন্ত্রী লিলিয়ান গ্রিনউড বলেন, বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ার বাস্তবতায় সরকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা যতটা সম্ভব বজায় রেখেই জীবন রক্ষার উদ্যোগ নিতে চায়। তবে গবেষক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু স্টেপটো সতর্ক করে বলেন, যেসব বয়স্ক মানুষ গাড়ি চালানো বন্ধ করতে বাধ্য হবেন, তাদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা রোধে বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি।

এজ ইউকে পরিবর্তনটি সমর্থন করলেও জানিয়েছে, শুধু চোখের পরীক্ষা করালেই সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সংস্থাটির মতে, অধিকাংশ বয়স্ক চালকই নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।

এর আগে দৃষ্টিশক্তি দুর্বল থাকা চালকদের কারণে প্রাণহানির ঘটনায় এক তদন্তে যুক্তরাজ্যের স্ব-ঘোষণাভিত্তিক ব্যবস্থা “অকার্যকর ও অনিরাপদ” বলে মন্তব্য করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্যবস্থা চালকদের প্রকৃত অবস্থা গোপনের সুযোগ দেয়।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হলেও, সবচেয়ে জরুরি হলো এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা মানুষকে যতদিন সম্ভব নিরাপদভাবে গাড়ি চালাতে সহায়তা করবে এবং ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

‘ইসলামোফোবিয়া শুধু টোরি কেন্দ্রিক সমস্যা নয়’

ম্যানচেস্টারে ভেজাল পণ্যের আস্তানায় পুলিশের অভিযান

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ করায় এনএইচএস কর্মীদের কর্মস্থলে নিষিদ্ধ ঘোষণা