19.2 C
London
August 28, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে’: সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের স্বাবলম্বী ও সুদৃঢ় পররাষ্ট্রনীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছরের দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে দেশের ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে’।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বৈদেশিক মিশনগুলোর সার্বিক মূল্যায়ন নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সফল ও সুদূরপ্রসারী পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব মেরুদণ্ড সোজা রেখে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জন করেছে। এই নেতৃত্বের ভিত্তিতেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।

গত ১৫ বছরের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে খলিলুর রহমান বলেন, ওই সময়ে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। দূতাবাসগুলোর সার্বিক কার্যক্রম, প্রবাসীদের সেবা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর তদারকি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, শ্রমিক পাঠানো এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে কোন মিশন কতটা সফল—তা মূল্যায়নের জন্য ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ বা কেপিআই ব্যবস্থা প্রস্তুত করছে সরকার।

এই কেপিআইয়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর কাজের মান ও গ্রেডিং নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি। সফল মিশনগুলোর জন্য বিশেষ পুরস্কার বা ‘রিওয়ার্ড ব্যবস্থা’ চালু করা হবে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে বলে সংসদে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, আগামী জাতীয় বাজেট পেশের সময় প্রতিটি দূতাবাসের সাফল্য, ব্যর্থতা এবং কাজের হালনাগাদ তথ্য সংসদ সদস্যদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। এসব তথ্য জানার পূর্ণ অধিকার সংসদ সদস্যদের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট নিয়েও সংসদে কথা বলেন খলিলুর রহমান। তিনি স্বীকার করেন, দেশের আয়তন, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক কূটনীতির গুরুত্বের তুলনায় মন্ত্রণালয়ের বর্তমান বাজেট বরাদ্দ অপ্রতুল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাজেট আলোচনায় এর আগেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় বাজেট বৃদ্ধি ও নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে দৃঢ় ও স্বাবলম্বী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। কেপিআইভিত্তিক মূল্যায়ন কার্যকর হলে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রবাসী সেবার ক্ষেত্রে দূতাবাসগুলোর ভূমিকা আরও পরিমাপযোগ্য হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে

আরো পড়ুন

তিনদিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবেঃ সতর্কীকরণ কেন্দ্র

জীবনে এত অসহায় কখনো অনুভব করিনিঃ আসিফ নজরুল

জনকণ্ঠে ‘র’-এর রহস্যময় সক্রিয়তা, সাংবাদিকদের চাকুরিচ্যুতি ও সংবাদ প্রচার বন্ধ