যুক্তরাজ্যে প্রবেশের নিয়মে বড় পরিবর্তনের ফলে কানাডা–ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিকরা নতুন জটিলতার মুখে পড়েছেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া বিধি অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় ব্রিটিশ বা আইরিশ পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে যারা এতদিন কানাডিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করতেন, তারা বিপাকে পড়েছেন।
মন্ট্রিয়ালে বসবাসকারী দ্বৈত নাগরিক সারা বাইরন জানান, কানাডার নাগরিক হওয়ার পর তিনি তার ব্রিটিশ পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হতে দিয়েছিলেন। এখন নতুন নিয়মের কারণে তাকে পুনরায় ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিতে হচ্ছে। হঠাৎ ঘোষিত এ পরিবর্তনে তিনি বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং আশঙ্কা করছেন, অনেক ভ্রমণকারী বিষয়টি না জেনে বিমানবন্দরে সমস্যায় পড়বেন।
নতুন বিধানটি যুক্তরাজ্যের বিস্তৃত সীমান্ত ও অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ। গত বছর চালু হওয়া ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবেশ নীতিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনুরূপ ডিজিটাল প্রবেশ ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে সীমান্ত আধুনিকায়নের উদ্যোগ হিসেবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
কানাডায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার রব টিনলাইন বলেন, এটি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ডিজিটাল ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় রূপান্তরের অংশ। তার মতে, ব্রিটিশ ও কানাডিয়ান নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে আসা নিরুৎসাহিত করা উদ্দেশ্য নয়; বরং নিয়মতান্ত্রিক ও আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনাই লক্ষ্য। তিনি নাগরিকদের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ শর্ত যাচাই করার পরামর্শ দেন।
তবে নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা যথেষ্ট প্রচার পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু ব্রিটিশ এমপি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে দুর্বল যোগাযোগের কারণে অনেক ভ্রমণকারী বিদেশে আটকে পড়তে পারেন।
ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকলে দ্বৈত নাগরিকদের সামনে রয়েছে দুটি ব্যয়বহুল বিকল্প—‘সার্টিফিকেট অব এন্টাইটেলমেন্ট’ সংগ্রহ অথবা নাগরিকত্ব ত্যাগ। এ প্রক্রিয়ার ব্যয় ৮০০ থেকে এক হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে। ফলে অনেকেই দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন করে আবেদন করছেন।
অন্টারিওভিত্তিক এক ট্রাভেল পরামর্শক জানান, অধিকাংশ ভ্রমণকারী এখনো নতুন নিয়ম সম্পর্কে অবগত নন। তিনি আশঙ্কা করছেন, নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে, কারণ এয়ারলাইনগুলোকে বোর্ডিংয়ের আগে যাত্রীদের কাগজপত্র যাচাই করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ব্রিটিশ হোম অফিস জানিয়েছে, এয়ারলাইনগুলো চাইলে বৈধ বিদেশি পাসপোর্টের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারে। তবে যারা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করে পুরোনোটি জমা দিয়েছেন, তারা এ সুবিধা পাবেন না।
নামসংক্রান্ত জটিলতাও অনেকের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের ‘ওয়ান-নেম পলিসি’ অনুযায়ী, ব্রিটিশ ও বিদেশি পাসপোর্টে নামের মিল থাকা বাধ্যতামূলক। কুইবেকসহ কিছু অঞ্চলে বিয়ের পর নারীদের জন্মনাম বজায় রাখার আইন থাকায় আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কানাডায় চার লাখের বেশি বাসিন্দার জন্ম যুক্তরাজ্যে। এছাড়া ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের সন্তানরাও নাগরিকত্ব আইনের কারণে প্রভাবিত হতে পারেন। ফলে নতুন বিধির প্রভাব উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বৈত নাগরিকদের অনেকেই এখন ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখে পরিস্থিতি পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মতে, হঠাৎ পরিবর্তিত এ নিয়ম এবং যথাযথ যোগাযোগের অভাব অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি করেছে।
সূত্রঃ সিবিসি নিউজ
এম.কে

