নতুন পাসপোর্ট বিধিতে বিপাকে দ্বৈত নাগরিক পরিবার, সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা
যুক্তরাজ্যের নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বিধি ঘিরে উদ্বেগ ও সমালোচনা বাড়ছে। দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পাসপোর্ট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার নিয়মের ফলে একটি ব্রিটিশ-ডেনিশ পরিবার সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে। বিষয়টি সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং সরকারের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ওয়েলসে বসবাসকারী জেমস স্ক্রিভেন্স ও তার ডেনিশ স্ত্রী স্কুল ছুটিতে নরওয়ে ও ডেনমার্কে স্বজনদের দেখতে যান। বিদেশে অবস্থানকালে তারা জানতে পারেন যে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা দ্বিতীয় দেশের পাসপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত ৫৮৯ পাউন্ড ফি দিয়ে নেওয়া ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ প্রদর্শন করতে হবে। তা না হলে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ বোর্ডিং বাতিল করতে পারে।
স্ক্রিভেন্স জানান, তার দুই সন্তানই যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক। তবে বর্তমানে তাদের কেবল ডেনিশ পাসপোর্ট রয়েছে। নতুন নিয়ম সম্পর্কে কোনো সরাসরি বা লক্ষ্যভিত্তিক বার্তা তারা পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকস্মিকভাবে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারটি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কোপেনহেগেন বিমানবন্দরে সন্তানদের বোর্ডিংয়ে বাধা দেওয়া হলে তাদের দাদা-দাদির কাছে রেখে অন্তত একজন অভিভাবককে ওয়েলসে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ পাসপোর্টের আবেদন করতে হতে পারে। একটি প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়াকে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।
ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এন ডেভিসের নজরে আনা হয়েছে। তিনি বিষয়টি জেনে “গভীরভাবে মর্মাহত” বলে মন্তব্য করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে হোম অফিসের কাছে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেন। সরকারের যোগাযোগ পদ্ধতিকে তিনি “বিপর্যয়কর” বলে অভিহিত করেন।
হাউস অব কমন্সে জরুরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অভিবাসনমন্ত্রী মাইক ট্যাপ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ২০২৪ সাল থেকেই এই নির্দেশনা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রয়েছে এবং প্রচারের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তার দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য দেশের নীতির সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি ম্যানুয়েলা প্যাটিগেলা সরকারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কেবল ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করাকে কার্যকর যোগাযোগ বলা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, কানাডা অনুরূপ নিয়ম চালুর সময় কার্যকর করার আগে সময় দিয়েছে এবং অজ্ঞাত দ্বৈত নাগরিকদের জন্য স্বল্পমূল্যের অস্থায়ী অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছে।
এদিকে কনজারভেটিভ এমপি ডেভিড ডেভিস ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ চালুর আহ্বান জানান। তিনি তার ৯১ বছর বয়সী এক ভোটারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নবায়ন প্রক্রিয়াধীন থাকায় তার কন্যা বর্তমানে নেদারল্যান্ডস থেকে যুক্তরাজ্যে এসে মাকে দেখতে পারছেন না।
নতুন নিয়ম কার্যকরের পদ্ধতি ও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সমালোচকদের দাবি, পর্যাপ্ত পূর্বঘোষণা ও রূপান্তরকালীন সুবিধা ছাড়া এমন বিধি বাস্তবায়ন পরিবারগুলোর জন্য অপ্রত্যাশিত মানবিক সংকট তৈরি করছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

