TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষায় ২০০টির বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ২০০টিরও বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি এ দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এলহামি বলেন, দেশের সামরিক প্রয়োজন ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও মোতায়েন করেছে। এসব ব্যবস্থার কয়েকটির কোনো পরিচিত বিদেশি সমকক্ষ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানি কমান্ডারের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় এসব দেশীয় প্রযুক্তির কিছু ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলো ২০০টির বেশি শত্রু বিমান ধ্বংসে ভূমিকা রাখে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ বাহিনী কোন ধরনের ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের বিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, সেটিও শনাক্ত করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এলহামির বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিকে তাই দেশটির সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর উপ-সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেঘিয়ান জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ৩ হাজার ৮০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। মরুভূমি, উপকূলীয় এলাকা, দ্বীপ ও পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকায় এসব ইউনিট ছড়িয়ে রয়েছে।

সাদেঘিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ইউনিটের প্রধান দায়িত্ব হলো আকাশসীমায় সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা, লক্ষ্যবস্তুর গতিপথ নির্ধারণ, তা প্রতিহত করা এবং প্রয়োজন হলে ধ্বংস করা। বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় ইউনিট মোতায়েনের মাধ্যমে ইরান তার আকাশসীমার বিভিন্ন অংশে নজরদারি ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষার জন্য জনগণ ও সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার অবস্থানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। পাল্টা ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার, দ্রুত লক্ষ্য শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিজস্বভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিমান হামলা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই তেহরান এগোচ্ছে বলে কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

সূত্রঃ প্রেস টিভি

এম.কে

আরো পড়ুন

ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ, আটশরও বেশি বৃত্তি 

গোপনে আমিরাত সফরে নেতানিয়াহুঃ তথ্য ফাঁস হওয়ায় ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ আমিরাত

ট্রাম্প জিতলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে: সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী