TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমকে ব্রিটেনে ফেরানোর কথা ভাবতে বললেন নাইজেল ফারাজ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমকে যুক্তরাজ্যে ফিরতে দেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ। ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন থেকে সিরিয়ায় গিয়ে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএসে যোগ দেওয়া শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ২০১৯ সালে প্রত্যাহার করা হয়।

আইটিভি নিউজের রাজনৈতিক সংবাদদাতা হ্যারি হর্টনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ফারাজ বলেন, শামীমাকে ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে তিনি আগে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে এখন তিনি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।

ফারাজ বলেন, তিনি শামীমাকে ‘পুরোপুরি আইএসের একজন হত্যাকারী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে শামীমার বিষয়টি আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের তুলনায় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

ফারাজের এই মন্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা সেব গোরকার সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথাও উঠে এসেছে। গোরকা সিরিয়ায় আটক আইএস সদস্যদের নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তি দিয়েছেন বলে ফারাজ উল্লেখ করেন।

ফারাজ বলেন, ব্রিটেন ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ যদি সিরিয়ায় আটক এসব ব্যক্তিকে নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে কারাগারে না রাখে, তাহলে সিরিয়ার নতুন সরকারের অধীনে তাদের কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তার মতে, এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে ফারাজ স্পষ্ট করেন, শামীমা বেগমসহ সিরিয়া থেকে কাউকে ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি তার কাছে সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এমন প্রত্যাবর্তন তিনি ‘সহজাতভাবে’ সমর্থন করতে চান না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব ও আইনি অবস্থান

শামীমা বেগম ২০১৫ সালে দুই স্কুলসঙ্গীর সঙ্গে যুক্তরাজ্য থেকে সিরিয়ায় যান এবং আইএস-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পৌঁছান। পরে তাকে একটি আইএস যোদ্ধার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তীতে তাকে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

তবে শামীমার নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত তার মামলায় যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে। আদালতের প্রশ্নগুলোর মধ্যে ছিল, শামীমা মানবপাচারের শিকার হয়ে থাকলে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যুক্তরাজ্য সরকারের তার পরিস্থিতি বিবেচনা করার কোনো ইতিবাচক দায়িত্ব ছিল কি না।

এদিকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে শামীমা বেগমের প্রসঙ্গ উঠলে হোম অফিসের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসন বলেন, যুক্তরাজ্যের আদালত তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে সরকার তার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রশ্ন

শামীমার বাবা-মায়ের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে ২০১৯ সালে তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে সময় স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং তিনি কখনো বাংলাদেশে আসেননি। বাংলাদেশ সরকার আরও জানিয়েছিল, তার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

ফলে শামীমাকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের মূল বিষয় হচ্ছে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রত্যাহার, সিরিয়ায় তার অবস্থান এবং তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা।

নাইজেল ফারাজের সর্বশেষ মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে তার বক্তব্য একটি রাজনৈতিক দলের নেতার অবস্থান; শামীমা বেগমকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা তার বক্তব্য থেকে পাওয়া যায় না।

সূত্রঃ রয়টার্স \ আইটিভি নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

শামীমা বেগমের সাক্ষাৎকার নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা

ব্যারনেস ওয়ার্সি’র হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগ

তেহরানের হুমকির পর ইরানি টিভি চ্যানেল লন্ডন সদর দপ্তর বন্ধ করে দিয়েছে