TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

‘নির্বাচনী স্বার্থে উগ্র ডানপন্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে’—ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলমের অভিযোগ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মব সন্ত্রাস এবং উগ্র ডানপন্থী বা ‘ফার-রাইট’ গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলেছেন। “খেলা শেষ, খোদা হাফেজ!” শিরোনামে প্রকাশিত ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলার ঘটনাকে ঘিরেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে মাহফুজ আলম দাবি করেন, কিছু রাজনৈতিক কুশীলব নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার উদ্দেশ্যে ফার-রাইট বা উগ্র ডানপন্থী উপাদানগুলোকে কার্যত ভাড়াটে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার পর এখন সেই একই মহল এসব গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মাজার, পত্রিকা অফিস এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে যেসব হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর পেছনে এই ফার-রাইট গুন্ডাতন্ত্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে সমাজে ভয় ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে একটি সর্বজনীন গণআন্দোলনের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে ‘ইসলামি’ বা ‘ঐতিহ্যবাদী’ বিপ্লব হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তার মতে, এই বয়ান প্রতিষ্ঠার কারণে ধর্মনিরপেক্ষ, উদারপন্থী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর একটি অংশের মধ্যে আন্দোলনটি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।

পোস্টে মাহফুজ আলম জানান, তিনি গত বছর থেকেই ডিজিটাল মব, অপপ্রচার এবং সংঘবদ্ধ অনলাইন চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে তাকে নানা ধরনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে এমন একটি সময় আসছে, যা হবে ‘সবার জন্য হিসাব-নিকাশের সময়’। তার ভাষায়, অতীতের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি একসময় সবারই করতে হবে।

মাহফুজ আলমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সংস্কৃতি এবং উগ্রবাদের উত্থান নিয়ে মাহফুজ আলমের পর্যবেক্ষণ নতুন করে জনপরিসরে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আর কিছু বলা যাবে নাঃ বিক্রম মিশ্রি

নির্বাচনী তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ বা আন্দোলনে কঠোর নিয়ন্ত্রণে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার

বিমসটেকে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের চেষ্টায় মিয়ানমারঃ রয়টার্স