3 C
London
January 4, 2026
TV3 BANGLA
ফিচারযুক্তরাজ্য (UK)

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপঃ যুক্তরাজ্যে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ঝুঁকি

একসময় উচ্চ রক্তচাপকে মূলত মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও এর হার দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, এর ফলে কর্মক্ষম বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকসহ গুরুতর জটিলতার ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে

চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চ রক্তচাপকে হাইপারটেনশন বলা হয়। এটি তখনই সৃষ্টি হয়, যখন ধমনীতে রক্তচাপ দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক মাত্রার ওপরে থাকে। হৃদয় থেকে মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত বহনকারী এই ধমনীগুলোতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপসর্গ স্পষ্ট না হওয়ায় একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

রক্তচাপ সাধারণত বাহুতে কাফ লাগানো যন্ত্রের মাধ্যমে মাপা হয়। এতে দুটি সংখ্যা দেখানো হয়—সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক চাপ। সিস্টোলিক চাপ হৃদয় সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময়ের চাপ নির্দেশ করে, আর ডায়াস্টোলিক চাপ হৃদয় শিথিল থাকার সময়ের চাপ বোঝায়।

যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৯০/৬০ থেকে ১১৯/৭৯ রক্তচাপকে স্বাভাবিক ধরা হয়। ১৪০/৯০ বা তার বেশি হলে তা উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো একক সীমা নেই। বয়স, উচ্চতা ও লিঙ্গ অনুযায়ী একই শ্রেণির শিশুদের মধ্যে যাদের রক্তচাপ সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মধ্যে পড়ে, তাদের হাইপারটেনশন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 

উচ্চ রক্তচাপ যুক্তরাজ্যে একটি ব্যাপক সমস্যা। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক এ সমস্যায় ভুগছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধমনীগুলো শক্ত হয়ে যাওয়া একটি বড় কারণ। বংশগত ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি কৃষ্ণ আফ্রিকান, কৃষ্ণ ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

জীবনযাপনের ধরন এই রোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

খুব অল্পবয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ সাধারণত হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা কিংবা জেনেটিক ও হরমোনজনিত জটিলতার কারণে হয়, যাকে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন বলা হয়। তবে ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে খারাপ খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার চার গুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। ধমনীতে অ্যানিউরিজম তৈরি হয়ে তা ফেটে গেলে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। হৃদয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ হৃদ্‌যন্ত্রের ব্যর্থতা, অনিয়মিত স্পন্দন ও হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালী নষ্ট হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিও থাকে।

মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে ভাসকুলার ডিমেনশিয়া, মিনি-স্ট্রোক কিংবা বড় ধরনের স্ট্রোক হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রেও হৃদয়, কিডনি ও চোখের স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে উচ্চ রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, লবণ ও চিনিযুক্ত পানীয় কমানো, ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শারীরিক ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

কনজারভেটিভের অভিবাসন নীতি দাঙ্গাকে উসকে দিয়েছেঃ সমতা কমিটি

প্রতারণা মামলা থেকে রেহাই পেলেন এমপি আপসানা

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন নিয়মে ভেঙ্গে পড়তে পারে অর্থনীতিঃ গবেষণা