জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভাষণ শুরু হওয়ার সময় বহু দেশের প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। ইসরায়েলি পক্ষের হিসাবে, এমন দেশের সংখ্যা ৭৭। তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ইসরায়েলি কূটনীতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অধিবেশন কক্ষের সারিগুলোর মধ্য হতে বেরিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিনিধিদলের তালিকা করছিলেন। এই তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভয়েস অব এমিরেটস।
তবে ৭৭ দেশের এই সংখ্যা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ইসরায়েলি হিসাবের তালিকায় এমন দেশও রয়েছে, যাদের প্রতিনিধিরা ভাষণ শুরুর সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিটি দেশ যে সরাসরি প্রতিবাদ হিসেবে ‘ওয়াকআউট’ করেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, কিছু প্রতিনিধি শুধু অধিবেশনের ওই পর্বে উপস্থিত ছিলেন না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, জর্ডান, ইরান, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, কলম্বিয়া, চিলি, কুয়েত, মালদ্বীপসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কলম্বিয়া, আজারবাইজান ও গ্রিসের প্রতিনিধিরা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও কক্ষে ছিলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, আরব দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা ভাষণ শোনার জন্য কক্ষে ছিলেন।
নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হওয়ার সময় অধিবেশন কক্ষে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও দুয়োধ্বনি শোনা যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদল এবং গ্যালারিতে থাকা কিছু দর্শকের কাছ থেকে করতালিও শোনা যায়।
ভাষণ শুরুর আগেই যারা কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন, তাদের সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন এবং যারা তখনও কক্ষে ছিলেন, তাদেরও বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
নেতানিয়াহুর ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে তিনি ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন এবং ইসরায়েলের সমালোচকদের আক্রমণ করেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইরান, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং ইসরায়েলের সমালোচনাকারী বিভিন্ন পক্ষের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও ফ্রান্সের মতো মিত্র দেশগুলোর অবস্থান নিয়েও কথা বলেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে অধিবেশন কক্ষের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি দেখা যায়।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এমকে

