23.2 C
London
August 26, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

নেপালের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল গঙ্গার পথেঃ বাংলাদেশকে সতর্ক থাকার আহ্বান

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পাহাড়ি ঢলের প্রভাব নিয়ে ভারতের বিহারসহ ভাটির বিস্তীর্ণ নদী অববাহিকায় সতর্কতা জারি হয়েছে। নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী হয়ে প্রবাহটি নারায়ণী–গন্ধক নদীব্যবস্থায় পৌঁছানোর পর গন্ধক নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

 

ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন ত্রিশুলি নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির পর গন্ধক নদীর ভাটি এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বন্যার ঢেউ গন্ধক নদী দিয়ে ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এর সর্বোচ্চ প্রবাহ বা ঢেউয়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নেপালে যে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল দেখা গেছে, একই মাত্রার প্রবাহ ভাটির প্রতিটি এলাকায় পৌঁছাবে—এমন ধারণা করার কারণ নেই।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহারের ভালমিকিনগর এলাকায় গন্ধক বাঁধের সব ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত পানি নিরাপদে নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং বাঁধের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বাঁধে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কারিগরি দলও পাঠানো হয়েছে।

বিহার প্রশাসন গন্ধক নদী অববাহিকার জেলাগুলোতেও সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। নদীর পানি, বাঁধ ও তীরবর্তী এলাকার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

নেপালের আকস্মিক বন্যার পানি ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদীপথ পেরিয়ে নারায়ণী নদী ব্যবস্থায় যুক্ত হয়। ভারতের অংশে এই নদী গন্ধক নামে পরিচিত। ফলে নেপালে বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা হলে তার প্রভাব ভাটির ভারতীয় অংশে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এই নদীপথের কারণে বাংলাদেশেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গন্ধকের পানি বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গায় যুক্ত হয়। গঙ্গার মূল প্রবাহ এরপর পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ফারাক্কা এলাকার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গঙ্গা নদীতে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর এই প্রবাহ পদ্মা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়।

তবে নেপাল থেকে সৃষ্ট এই নির্দিষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি ঠিক কখন বাংলাদেশের নদী অববাহিকায় পৌঁছাবে, তা এই মুহূর্তে নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নদীর দীর্ঘ পথ অতিক্রমের সময় পানির প্রবাহের গতি, নদীর ধারণক্ষমতা, বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় পানি ছড়িয়ে পড়া এবং অন্যান্য নদীর প্রবাহের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে বিহারের গঙ্গা অববাহিকাতেও পানির উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে গঙ্গার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে থাকার খবর পাওয়া গেছে। ফলে নেপাল থেকে অতিরিক্ত পানি গন্ধক হয়ে গঙ্গায় যুক্ত হলে ভাটির পরিস্থিতির ওপর তার প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন নজরদারির অন্যতম বিষয়।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের মূল দুর্যোগটি এরই মধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের পর হিমবাহ বা বরফ-পাথরের বিশাল অংশ ধসে গিয়ে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ ও পাথর নেমে আসার ফলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

এই আকস্মিক ঢলের প্রভাবে ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদীতে অল্প সময়ের মধ্যে পানির উচ্চতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষও নেমে আসায় নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় সড়ক, সেতু, বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশ ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। গন্ধক নদীর পাশাপাশি নেপাল থেকে প্রবাহিত অন্যান্য নদীর পানির উচ্চতাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাই এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গঙ্গা–পদ্মা অববাহিকার তীরবর্তী এলাকা, নিচু অঞ্চল এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের আগামী কয়েক দিন নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে কি না, স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা এবং বন্যা পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

তবে নেপালে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের সবটুকু পানি একই শক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো নেই। বরং ভারতীয় কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বন্যার ঢেউয়ের সর্বোচ্চ তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গঙ্গা–গন্ধক নদী ব্যবস্থার আন্তঃসীমান্ত প্রবাহ এবং ভারতের গঙ্গায় ইতোমধ্যে উচ্চ পানির কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বিশেষ করে ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশের গঙ্গা–পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতার পরিবর্তন আগামী কয়েক দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ট্রিবিউন

এম.কে

আরো পড়ুন

কার নির্দেশে ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালানো হয়েছে, জানালেন সাবেক আইজিপি

বাংলাদেশের প্রেমে মজেছেন সন্তানদের খোঁজে আসা মার্কিন নাগরিক

১৫ বছরের শাসনের রক্তাক্ত পরিণতিঃ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার শুরু