ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে দীর্ঘ বৈঠকের পর ট্রাম্প এই সামরিক জোটকে ‘ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিতর্কিত হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার হোয়াইট হাউজে মার্ক রুটের সঙ্গে দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন ট্রাম্প। এরপর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি লিখেন, ‘ন্যাটো যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল তখন পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতে যখন আমাদের আবার প্রয়োজন হবে তখনও তারা সেখানে থাকবে না।’
মার্ক রুট সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন যে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের প্রতি ‘স্পষ্টতই হতাশ’। তবে তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বড় অংশ ঘাঁটি প্রদান, লজিস্টিকস ও ওভারফ্লাইট সুবিধা দিয়ে সহায়তা করেছে।
রুট বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যা করতে পেরেছে, তা সম্ভব হয়েছে অনেক ইউরোপীয় দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেছে বলেই। আমি তার হতাশা বুঝলেও সব দেশ যে সহায়তা করেনি, এমনটা নয়।’
রুট আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার পেছনে ইউরোপের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
বৈঠকের পর ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আবারও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি লিখেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের কথা মনে রেখো, সেই বড়, খারাপভাবে পরিচালিত বরফের টুকরোটা!!!’
এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় যেসব ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র সহায়তা করেনি, তাদের শাস্তি দিতে ওই দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। যদিও পুরো ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন, তাই ট্রাম্প আপাতত নির্দিষ্ট দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছেন।
তবে মার্ক রুট এই পরিকল্পনার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এই পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। গত ছয় সপ্তাহে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুরোপুরি সক্রিয় ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

