11.7 C
London
March 27, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠকের প্রস্তুতিঃ যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যা খুব শিগগিরই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ একদিকে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—দুই ধারাই সমানতালে এগোচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত দশ হাজার সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার মেরিন ও দুই হাজার প্যারাট্রুপার উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন ও সাঁজোয়া যান যুক্ত হতে পারে।

কূটনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ ইতোমধ্যে হয়েছে এবং সরাসরি বৈঠকের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পাকিস্তানেই খুব শিগগির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ তুরস্ক ও মিশরের সহায়তায় দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। যদিও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হয়নি, তবুও কূটনৈতিক তৎপরতা যে বাড়ছে তা স্পষ্ট।

অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আলোচনার পরপরই তেহরানে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল, যা তারা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সম্ভাব্য নতুন আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও দশ দিন বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমির ছোট শহর মিৎসপে রামোন এখন কার্যত একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ সেখানে আশ্রয় নিচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরটির জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে এবং হোটেল ও আবাসন ব্যবস্থা প্রায় পূর্ণ।

একই সময়ে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করে বলেছেন, তারা নিজেদের সেনাদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে পারছে না, ফলে অন্য দেশে যুদ্ধ পরিচালনা করা তাদের জন্য কঠিন হবে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ পুনরায় সচল করতে বহুজাতিক নৌ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা গেলে তা শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর উস্ত-লুগা বন্দর-এ বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে তেল সংরক্ষণ ট্যাংক ও অবকাঠামোতে ব্যাপক আগুন ধরে যায়, যা দূরবর্তী এলাকা থেকেও দেখা গেছে। এই হামলায় রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি বিশ্বকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউক্রেন যুদ্ধ চলতে পারে কয়েক দশকঃ মেদভেদেভ

অদ্ভুত শুল্কনীতি, আর তার প্রতীক ‘উদাসীন পেঙ্গুইন’: ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন মিম ট্রেন্ড

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ান সরকারের দুঃসংবাদ