TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের মেয়রকে ‘লর্ড’ উপাধি দেওয়ার চিন্তা, দলীয় ভাঙন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন কৌশল

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে লন্ডনের মেয়রকে ‘লর্ড’ উপাধি দেওয়ার সম্ভাবনা। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কমাতে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে পিয়ারেজ বা লর্ড উপাধি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সাদিক খান একাধিক বিষয়ে সরকারের অবস্থানের বাইরে গিয়ে মন্তব্য করায় ক্ষমতাসীন দলে ভেতরে ভিন্নমতের প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সামনে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য খারাপ ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, শুধু লর্ড উপাধিই নয়, সাদিক খানকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এতে করে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান শক্তিশালী করা এবং দলীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসব তথ্যকে ‘জল্পনা’ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার প্রশ্ন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান প্রকাশ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, যা সরকারের বর্তমান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের কারণে দেশের ক্ষতি হয়েছে এবং সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হলে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনে দলকে স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে—লেবারকে ভোট দিলে দেশ আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরবে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বারবারই ব্রেক্সিট থেকে সরে আসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে একই দলের শীর্ষ দুই নেতার ভিন্ন অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি এক উপনির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফল এই দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে। আগে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনে তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়ার পর সাদিক খান প্রকাশ্যে দলের কৌশলের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, উদারপন্থী ও প্রগতিশীল ভোটারদের অবহেলা করা একটি ভুল কৌশল এবং এর ফলে ভোটাররা দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে দেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে লেবার পার্টি ভবিষ্যতে বড় বড় শক্ত ঘাঁটি হারাতে পারে।

এছাড়া, গ্রিন পার্টির সমর্থকদের ‘চরমপন্থী’ বলে আখ্যা দেওয়ার জন্যও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। তার মতে, এসব ভোটার মূলত সরকারের ওপর হতাশ এবং তাদের অবমূল্যায়ন করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি লেবার পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। একদিকে নেতৃত্বের ভেতরে মতপার্থক্য, অন্যদিকে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে দলের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

এ অবস্থায় লন্ডনের মেয়রকে লর্ড উপাধি দেওয়া বা মন্ত্রিসভায় নেওয়ার মতো পদক্ষেপ দলীয় ঐক্য রক্ষায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের বাজারে খুব দ্রুতই আসতে যাচ্ছে ল্যাবে তৈরি মাংস

যুক্তরাজ্যে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর কোনটি সঠিক পথ – আপিল নাকি নতুন আবেদন?

যুক্তরাজ্যের লেইসেস্টারশায়ারের সামার ক্যাম্পে শিশু অসুস্থঃ ৭৬ বছরের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার