10 C
London
October 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমালে হতে পারে সংক্রমণঃ ব্যাহত হতে পারে ঘুম

পোষা কুকুর, বিড়াল কিংবা অন্য প্রাণীকে পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসেন অনেকে। রাতে একই বিছানায় পোষা প্রাণীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমানোর অভ্যাসও রয়েছে অনেকের। তবে এই অভ্যাসের কারণে মানুষ ও প্রাণী—উভয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের পশু চিকিৎসক টম ম্যাসন।

এই চিকিৎসকের মতে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানোর কারণে পরজীবীর সংক্রমণ, ঘুমের ব্যাঘাত, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত এবং আচরণগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে প্রাণীর ধরন, তার স্বাস্থ্যের ইতিহাস এবং মালিকের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর।

পোষা প্রাণীর শরীরে মাছি, এঁটুলি, মাইট ও উকুনের মতো বাহ্যিক পরজীবী থাকতে পারে। একই বিছানায় ঘুমালে এসব পরজীবী মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ ছাড়া কুকুর ও বিড়ালের শরীরে থাকা কিছু অভ্যন্তরীণ পরজীবী থেকেও মানুষ সংক্রমিত হতে পারে।

টম ম্যাসন জানান, কুকুর ও বিড়ালের শরীরে থাকা গোলকৃমি বা টক্সোকারার ডিম আক্রান্ত প্রাণীর মলের সঙ্গে বের হয়ে বিছানার চাদরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অপরিচ্ছন্নতার কারণে এসব ডিম মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটতে পারে, যা শনাক্ত করা ও চিকিৎসা করা কঠিন হতে পারে।

একই বিছানায় পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমালে মানুষের স্বাভাবিক ঘুমও ব্যাহত হতে পারে। রাতে প্রাণীর নড়াচড়া, অস্থিরতা ও বারবার শোয়ার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ঘুমের চক্রে বিঘ্ন ঘটতে পারে। অনেক সময় ঘুমের মধ্যে এমনটা ঘটলেও মানুষ তা বুঝতে পারেন না। অন্যদিকে, মালিকের নড়াচড়ার কারণেও পোষা প্রাণীর ঘুম ব্যাহত হতে পারে। কুকুর ও বিড়ালের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন।

রাতে একই বিছানায় থাকার কারণে অনিচ্ছাকৃত আঁচড় বা ধাক্কা লাগার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও নাজুক প্রাণী উঁচু বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে আহত হতে পারে। এ ছাড়া মালিকের সঙ্গে সব সময় ঘনিষ্ঠভাবে থাকতে অভ্যস্ত কিছু প্রাণী দিনের বেলায় আলাদা থাকার সময় বিচ্ছিন্নতাজনিত আচরণগত সমস্যায় ভুগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এই চিকিৎসক।

টম ম্যাসনের মতে, বিশেষ করে কুকুরের ক্ষেত্রে নিয়মিত একই বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস মালিক ও প্রাণীর মধ্যকার সীমারেখা অস্পষ্ট করে দিতে পারে। কুকুর সাধারণত নির্দিষ্ট রুটিন ও নিয়মের সঙ্গে অভ্যস্ত। ঘরের ব্যক্তিগত জায়গায় নিয়মিত প্রবেশের সুযোগ কিছু ক্ষেত্রে আচরণগত জটিলতা তৈরি করতে পারে।

পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেও এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন টম ম্যাসন। তার পরামর্শ, মালিকের শোবার ঘরেই পোষা প্রাণীর জন্য আরামদায়ক আলাদা বিছানা রাখা যেতে পারে। এতে প্রাণীটি মালিকের কাছাকাছি থাকতে পারবে, আবার একই বিছানায় ঘুমানোর সম্ভাব্য ঝুঁকিও কমবে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে লেবার সরকারের কড়াকড়িঃ অবৈধ শ্রমিক ধরতে অভিযান বাড়ছে

৩৮ বছর ধরে ইউকেতে বাস করার পরও যুক্তরাজ্য হতে অপসারণের হুমকি

ছোট নৌকায় অভিবাসন বেড়েই চলেছে, ২০২৫ হলো ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বছর